• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 21 September, 2026

আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩

সোমবার ভোরে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কুনার-সহ একাধিক এলাকায় হামলায় চালায়। কুনারে হামলায় তিন জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। পাক্তিকাতেও পাকিস্তানি বিমান হানার খবর মিলেছে

আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩

Image: Reuters via ANI

তালিবানের হুঁশিয়ারির কয়েক দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান (Pakistani airstrikes)। সোমবার ভোরে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি পাক্তিকার দু’টি এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর।

এই হামলার ফলে দুই পড়শি দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনগুলি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তালিবান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আফগান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কুনার-সহ একাধিক এলাকায় হামলায় চালায় (Pakistani airstrikes)। কুনারে হামলায় তিন জন নিহত এবং আরও কয়েকজন (Pakistani airstrikes) আহত হয়েছেন বলে খবর। পাক্তিকাতেও পাকিস্তানি বিমান হানার খবর মিলেছে।

আরও পড়ুন: হরমুজের কাছে ফের জাহাজে ড্রোন হামলা, রক্ষা পেলেন ৯ ভারতীয় নাবিক

সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে আফগানিস্তানে সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহায়তা মিশন (UNAMA)-এর হিসাব অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে সীমান্তপারের সশস্ত্র সংঘর্ষে আফগানিস্তানে ৩৯৯ জন সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৭ জন নিহত এবং ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪০ জন মহিলা এবং ১১২ জন শিশু ছিলেন। ছ’জন মহিলা নিহত হন। নিহত শিশুর সংখ্যা ২৬ এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৬ জন।

UNAMA সূত্রে খবর, ওই তিন মাসে আফগানিস্তানে সাধারণ মানুষের হতাহতের জন্য পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর হালাকেই দায়ী করা হয়েছে। বিমানহানা এবং স্থল সংঘর্ষই ছিল হতাহতের প্রধান কারণ। পাক্তিয়া, পাক্তিকা, এবং কুনার প্রদেশে বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটেছে। ২৮ জুলাই মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে সাধারণ মানুষের উপর হামলা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।

এর আগের কয়েক মাসের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষে ৭৬৪ জন সাধারণ নাগরিক হতাহত হন। তাঁদের মধ্যে ৩৭২ জন নিহত এবং ৩৯২ জন আহত হন। আফগানিস্তানের মাটিতে হতাহতদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই বিমানহানাকে দায়ী করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তান সামরিক অভিযান চালালে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: তেজসে জাপানের বায়ুসেনা প্রধান, প্রথম বার ভারতে জাপানি যুদ্ধবিমান

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান যদি সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে আফগান ভূখণ্ডে অভিযান চালায়, তা হলে আফগানিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের মাটিতে হামলা চালালে ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর্ এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, জঙ্গি সংগঠনগুলি আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবস্থা করছে। সেই অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে তালিবান।

সোমবারের নতুন হামলার পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে কুনার ও পাক্তিকা। দুই প্রদেশেই এর আগে সীমান্তপারের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন করে বিমানহানার ঘটনায় আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্ত আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

দেখুন: