• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 6 November, 2026

শচীনের আপত্তি সত্ত্বেও বড় দায়িত্ব ১৫ বছরের বৈভবকে, বিহারের সিনিয়র দলের অধিনায়ক বিস্ময় কিশোর

বৈভবের ক্রিকেটজীবনে গত কয়েক মাসে একের পর এক সাফল্য এসেছে। ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৭৫ রানের

শচীনের আপত্তি সত্ত্বেও বড় দায়িত্ব ১৫ বছরের বৈভবকে, বিহারের সিনিয়র দলের অধিনায়ক বিস্ময় কিশোর

Vaibhav Sooryavanshi Photo-SNS

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আরও এক বড় দায়িত্ব পেলেন বৈভব সূর্যবংশী। এ বার বিহারের সিনিয়র ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হলেন তিনি। আসন্ন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির প্রথম দু’টি ম্যাচে বৈভবের হাতেই নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়েছে বিহার ক্রিকেট সংস্থা। সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে সূরজ কাশ্যপকে। তবে বৈভবকে এত অল্প বয়সে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। সম্প্রতি শচীন তেন্ডুলকর বলেছিলেন, এখনই তাঁর উপর নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তা সত্ত্বেও সেটাই করা হল!

শুক্রবার ১৭ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিহার ক্রিকেট সংস্থা। আগামী ১৪ নভেম্বর ইন্দোরে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ বিহারের। দু’দিন পরে, ১৬ নভেম্বর রেলওয়েজের মুখোমুখি হবে তারা। এই দু’টি ম্যাচেই অধিনায়কত্ব করবেন বৈভব। তার পরে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার কথা তাঁর। সেই কারণেই আপাতত প্রথম দু’টি ম্যাচের জন্যই তাঁকে অধিনায়ক করা হয়েছে।

বিহার ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি হর্ষ বর্ধন মনে করেন, এই দায়িত্ব বৈভবের ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাঁর কথায়, ‘বৈভব অল্প বয়সেই অসাধারণ প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই দায়িত্ব ক্রিকেটার এবং নেতা— দু’ভাবেই ওকে আরও উন্নতি করার সুযোগ করে দেবে। বৈভবের নেতৃত্বে আসন্ন মরসুমে দল শৃঙ্খলাবদ্ধ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং কার্যকর ক্রিকেট খেলবে বলেই আমরা আশাবাদী’।

বৈভবের ক্রিকেটজীবনে গত কয়েক মাসে একের পর এক সাফল্য এসেছে। ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারও নির্বাচিত হন। তার পরে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ৭৭৬ রান করে নজর কাড়েন। স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭.৩০। আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার সুবাদে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলেও জায়গা করে নেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে ম্যাঞ্চেস্টারে অভিষেক হয় তাঁর। দেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার নজিরও গড়েন।

বৈভবের উত্থানে খুশি হলেও তাঁকে দ্রুত নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে নন শচীন। দলীপ ট্রফিতে বৈভব পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর শচীন বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, দলীপ ট্রফিতে ওকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গিয়েছে। ওকে আরও বেশি করে লাল বলের ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। এক ধাপ করে এগোনোই উচিত’।

ঘটনাচক্রে, শচীনের এই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই বিহারের সিনিয়র দলের অধিনায়ক করা হল বৈভবকে। দলীপ ট্রফিতে অবশ্য অধিনায়ক ইশান কিষাণ চোট পাওয়ায় অস্থায়ী ভাবে পূর্বাঞ্চলের নেতৃত্ব দিতে হয়েছিল তাঁকে। এ বার প্রথম বার বিহারের সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ব্যাট হাতে আগ্রাসী বৈভব অধিনায়ক হিসাবেও কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় রইল ক্রিকেটমহল।