গত মাসে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের যে দুটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হয় যুবভারতীতে, সেই দুটি ম্যাচের জন্য যুবভারতীকে ঢেলে সাজানো হয়েছিল। মাঠের ঘাস, ডাগ আউট থেকে শুরু করে গ্যালারি, জায়ান্ট স্ক্রিন— সব কিছুতেই এসেছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। কিন্তু এই দুই ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর ফের বেরিয়ে পড়ে সেই দুই ম্যাচের আগের রূপ। মাঠের উন্নত ঘাস একই রকম থাকলেও খুলে নেওয়া হয় ডাগ আউটের চেয়ারগুলির ওপর আটকানো গদি।
গ্যালারির একাংশকে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় পতাকার রঙে। এখন সেই রঙও উধাও। কী করে উধাও হল সেই রঙ? জানা গিয়েছে, গ্যালারির একাংশকে তেরঙ্গায় সাজানোর জন্য প্রায় ১৮ হাজার সিট কভারের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। এই ১৮ হাজার সিট কভার কিনতে ফেডারেশনের খরচ হয়েছিল এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, সেই সিট কভারগুলির স্তুপ জড়ো হয়ে রয়েছে রাস্তার ধারে।
সমাজমাধ্যমে এই ছবির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, এই কভারগুলি যুবভারতীর সিট থেকে খুলে নিয়ে সেগুলি জড়ো করা হয়েছে নিউটাউনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স লাগোয়া কোনো ফাঁকা জায়গায়।
কিন্তু ১৮ হাজার সিট কভার খুলে ফেলা হল কেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যা নিয়ে খোঁজখবর করে জানা গেল, ফেডারেশন এই সিটকভারগুলি বাবদ বকেয়া এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার বেশিরভাগটাই সম্ভবত এখনও মেটাতে পারেনি। তাই এই সিটকভারের সরবরাহকারী সংস্থা সেগুলি খুলে নিয়ে গিয়ে ওই ভাবে স্তুপাকৃত করে রেখে দিয়েছে।
কলকাতায় ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এবং বেঙ্গালুরুতে পানামার বিরুদ্ধে ভারতের তিনটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ করে বেশ বিপদে পড়েছে কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন ফুটবল ফেডারেশন। শুধু দলগুলির অ্যাপিয়ারেন্স ফি বাবদ ৬৩ কোটি টাকাই এখনও পুরোপুরি দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল সংস্থাদের। এই তিনটি ম্যাচের জন্য ফেডারেশনের প্রায় ৮৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
এই তিন ম্যাচ থেকে যা আয় হয়েছে, তাতে এই ৮৫ কোটির খুব কম অংশই মেটানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত রবিবার ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতি কল্যাণ চৌবে প্রস্তাব দেন সংস্থার ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত ভেঙে আপাতত এই দেনা মেটানো হোক। পরে যখন টাকা জোগাড় করা হবে, সেই ফিক্সড ডিপোজিট ফের পূরণ করা হবে। কিন্তু কী ভাবে কোন খাতে টাকা আসবে, তা তিনি জানাতে পারেননি। ফলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা কল্যাণের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। ফলে ফেডারেশন আপাতত দেনার দায়ে ডুবে রয়েছে। কার কাছে কত টাকা দেনা, কত বকেয়া, সেই হিসাবও দেননি ফেডারেশন সভাপতি। ফলে পুরো বিষয়টাই অস্বচ্ছ অবস্থায় রয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার ফেডারেশনকে তাদের বকেয়া না মেটালে তারা ফিফার কাছে নালিশ জানাতে পারে। কোর্ট অফ স্পোর্টস আর্বিট্রেশনেও (সিএএস) যেতে পারে তারা। এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলি একসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করলে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ঘোর বিপদে পড়তে পারে। এমনকী আন্তর্জাতিক ব্যান হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিসেম্বরে ফেডারেশনের নির্বাচন। নতুন কমিটি গঠন হওয়ার কথা সেখানে। নতুন কমিটিতে যে-ই থাকুন বা সভাপতির চেয়ারে নতুন যে-ই আসুন, তাদের যে বড়সড় দেনার দায় নিয়েই ক্ষমতায় আসতে হবে, এমন সম্ভাবনাই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।




