• facebook
  • twitter
Monday, 20 April, 2026

অস্কারের ‘হার না মানা’ মনোভাবেই বদল ইস্টবেঙ্গলের

ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকে অস্কারের মুখে একটা কথা বারবার শোনা গেছে। ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে লাল-হলুদের পার্থক্য কমানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

সুপার কাপ শুরু হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেছিলেন, ইস্টবেঙ্গল ড্রেসিংরুমের একমাত্র নেতা অস্কার বরুজো। কথাটা হয়তো খুব একটা ভুল বলেননি ময়দানের অন্যতম পোড়খাওয়া এই কর্তা। যখন প্রথমবারের জন্য লাল-হলুদের দায়িত্ব নিলেন স্প্যানিশ এই কোচ, তখন আইএসএলে পরপর ম্যাচ হেরে কার্যত ধুঁকছেন আনোয়ার আলি, সৌভিক চক্রবর্তীরা। সেখান থেকে দায়িত্ব নিয়ে কলকাতায় এসেই ডার্বি ম্যাচে দলের ডাগআউটে বসেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে জয় না এলেও, দলের মধ্যে লড়াইয়ের একটা মানসিকতা হয়তো সেদিন জাগাতে পেরেছিলেন নবাগত এই কোচ। যার প্রতিফলন দেখা গেছে পরের ম্যাচগুলোতে। সে মরসুমে দল সুপার সুপার সিক্সে জায়গা না পেলেও প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের লড়াকু মনোভাব বেশ নজর কেড়েছে।

ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকে অস্কারের মুখে একটা কথা বারবার শোনা গেছে। ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে লাল-হলুদের পার্থক্য কমানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, দল যাতে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে ফুটবলারদের সেই বার্তাও বারবার দিতে দেখা গেছে তাঁকে। আর সেটা যে শুধু কথার কথা ছিল না, সাম্প্রতিক সময়ে ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্সে তার ছাপ স্পষ্ট। চলতি মরসুমে ট্রফি না জিতলেও ইতিমধ্যেই দুটি ফাইনাল খেলেছেন রশিদ, মিগুয়েল, রাকিপরা। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারিয়ে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সুপার কাপের গ্রুপপর্বেও চির-প্রতিদ্বন্দ্বীকে রুখে দিয়েছিল তারা। এমনকি, আইএফএ শিল্ড ফাইনালে সবুজ-মেরুনের কাছে টাইব্রেকারে হারলেও মাঠে সেদিন আনোয়ার, গিল’দের লড়াই বেশ নজর কেড়েছিল।

Advertisement

সম্প্রতি, বেঙ্গালুরু ম্যাচে ২৪ মিনিটের মধ্যে লাল কার্ড দেখে যখন দলের অন্যতম ভরসা মিগুয়েল মাঠ ছাড়লেন তখন সবে আনোয়ারের গোলে সমতা ফিরিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সেইসময় রাকিপকে নামিয়ে রক্ষণভাগে একটু ভারসাম্য আনতে চেয়েছিলেন অস্কার। তবে, সব পরিকল্পনা ঘেঁটে যায় মিগুয়েলের আচমকা লালকার্ডে। অন্যদিকে, প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩৯ মিনিট নাগাদ বেঙ্গলুরুর হয়ে ব্যবধান ২-১ করে দিয়ে যায় সুরেশ ওয়াংঝাম। তা সত্ত্বেও মাঠে সেদিন দশজনের ইস্টবেঙ্গল শুধু লড়াই করেনি। ৯০ মিনিট অবধি ৩-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও শেষমুহূর্তে অ্যাণ্টন সজবার্গের গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। আর শুধু এই ম্যাচ কেন, গত মরসুমেও মহমেডানের বিপক্ষে ন’জনে হয়ে যাওয়ার পরেও লড়াই ছাড়েনি লাল-হলুদ ব্রিগেড। শেষপর্যন্ত ম্যাচ ড্র করে তারা।

Advertisement

আসলে, অস্কার ব্রুজোর একটা হার না মানা মনোভাব রয়েছে যা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে, ট্রফি জিততে না পারলেও জিকসন, বিষ্ণুদের মধ্যে যে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা তৈরী করতে পেরেছেন, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement