দীর্ঘদিন বাদে ভারতীয় ফুটবলে সেরা দলের স্বীকৃতি পেল ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ আইএসএল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা স্পষ্ট করে দিলেন তাঁরাই ভারতসেরা। ইস্টবেঙ্গলের কথা উঠলেই সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসাকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দিতে হয়। আর তাই তো এবারে কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ভারতসেরা নির্ণায়ক ম্যাচে ইন্টারকাশীকে হারিয়ে দিয়ে যখন ইস্টবেঙ্গল সবার সেরা হিসেবে খেতাব তুলে নিল, তখনই সমর্থকদের উন্মাদনা দারুণভাবে চোখে পড়েছে।
আর সঙ্গে সঙ্গে ক্লাব কর্মকর্তারা আগামী মরশুমের জন্য দল গঠন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছেন। বিশেষ করে বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামির সঙ্গে নতুন করে ইস্টবেঙ্গলের কর্মকর্তারা তাঁদের আগাম পরিকল্পনার কথাকে তুলে ধরেছেন। ইতিমধ্যেই সেই অর্থে ভারতীয় ফুটবলের রুটম্যাপ সরকারিভাবে ক্লাবের কাছে পৌঁছয়নি। আসলে আইএসএল ফুটবল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোচ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে যে চুক্তি, তা শেষ হয়ে গিয়েছে গত ৩১ মে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বড় আঘাত এসেছে কোচ অস্কার ব্রুজোর চলে যাওয়াটা। সেই কারণেই অস্কার ব্রুজোর সঙ্গে আর চুক্তি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। দলের অন্যতম কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার এই বিষয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতির সভায় স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সূচির ব্যাপারে বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামি বেশ ক্ষুব্ধ। ইস্টবেঙ্গল নিজের ইচ্ছাতেই এবার আইএসএল ফুটবল খেলেছে। আগেই বলা হয়েছিল, দু’বছরের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হবে। সেকথা ধরে রাখতে পেরেছেন। ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়রাও বেশ খুশি। আসলে ২২ বছর ধরে জাতীয়স্তরে কোনও ট্রফি লাল-হলুদ শিবিরে শোভা পাচ্ছিল না। তাই এবারে আইএসএল ফুটবল তাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জে বাজিমাত করেছে ইস্টবেঙ্গল।
সেপ্টেম্বর থেকে ফেডারেশনের কর্তারা আইএসএল শুরু করার কথা চিন্তা করলেও সরকারিভাবে তা এখনও জানানো হয়নি। এই প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী আগামী মরশুমে পূর্ণাঙ্গ আইএসএল ক্যালেন্ডার হওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে আইএসএল ফুটবল। আর এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ২০২৭ সালের ১১ এপ্রিল। অর্থাৎ টানা সাড়ে সাতমাস এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে সব দলগুলি যেমন ব্যস্ত থাকবে, তেমনই আবার খেলোয়াড়রাও বেশ চাপের মধ্যে থাকবেন। আইএসএলের পরেই শুরু হবে ফেডারেশন কাপ ফুটবল। আর ওই প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত। এদিকে সরকারিভাবে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে কলকাতার দলগুলি বেশ চাপে রয়েছে।




