বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে হোঁচট খেল ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। তাঁর মতে, দলের ফুটবলাররা অযথা স্নায়ুচাপে ভুগেছেন এবং প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারেননি। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চাপে রাখে মরক্কো। ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। পরে ৩২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে গোলের পরও ব্রাজিল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে আনসেলোত্তি সরাসরি বলেন, “আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে”। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিলের খেলায় ভারসাম্যের অভাব ছিল এবং দলটি স্পষ্টতই চাপের মধ্যে ছিল। ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, “প্রথমার্ধে আমাদের ছেলেরা বেশ চাপে ছিল। অনেকবার আমরা বলের দখল হারিয়েছি। আমাদের খেলায় সেই তীব্রতা ছিল না এবং আমরা সঙ্ঘবদ্ধও ছিলাম না।” ব্রাজিল কোচের এই মন্তব্যে এটাই স্পষ্ট যে, দলের পারফরম্যান্সে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি দেখেন ইতালিয়ান কোচ। কৌশলগত পরিবর্তনের পর মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে স্থিতি ফিরেছিল বলে তাঁর দাবি। আনসেলোত্তির ভাষায়, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভাল খেলেছি। ওই সময়ে আমাদের খেলায় অনেক ভারসাম্য ছিল এবং নিয়ন্ত্রণও আগের চেয়ে বেশি ছিল।”
মরক্কোর রক্ষণভাগের প্রশংসাও করেছেন তিনি। আনসেলোত্তি স্বীকার করেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স খুব সংগঠিত ছিল এবং সেই কারণেই ব্রাজিল খুব বেশি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ফলাফল নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রাজিল কোচ বলেন, “আমি হততাশো নই, অসন্তুষ্টও নই।” তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে দলের উন্নতির দিকেই বেশি নজর দেওয়া জরুরি।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে লড়াই আরও জমে উঠেছে। মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। অন্যদিকে, ব্রাজিলকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে যেতে হলে নিজেদের খেলার মান দ্রুত উন্নত করতে হবে। আনসেলোত্তিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী ম্যাচে প্রথম এগারোয় কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোল অন্তত ব্রাজিলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তবে কোচের কথাতেই পরিষ্কার, এই ড্র-কে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছে সেলিসাও শিবির।




