• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

১৬৪৩ পড়ুয়ার প্রাণ বাঁচিয়ে ‘ত্রিশূলীর হিরো’ প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র, ভয়াবহতা পেরিয়ে মুম্বাই ফিরলেন ৪১ পর্যটক

সমস্ত শ্রেণিকক্ষ খালি করে পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রায় ১৬৪৩ জন পড়ুয়ার দায়িত্ব তখন তাঁর কাঁধে

১৬৪৩ পড়ুয়ার প্রাণ বাঁচিয়ে ‘ত্রিশূলীর হিরো’ প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র,  ভয়াবহতা পেরিয়ে মুম্বাই ফিরলেন ৪১ পর্যটক

Image: Social Media

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিট। নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি (Rajendra Dawadi) তখনও জানতেন না, কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আচমকাই বন্ধুর ফোন আসে। গোটা গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে আসছে প্রবল জল ও কাদার স্রোত (Napal Flash Flood)। সেই স্রোত দ্রুত স্কুলের দিকেও এগিয়ে আসছে। খবর পেয়েই আর সময় নষ্ট করেননি রাজেন্দ্র।

নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে কংক্রিটের স্কুলভবন হওয়ায় প্রথমে বিপদের আশঙ্কা করেননি তিনি (Rajendra Dawadi) । কিন্তু এক অভিভাবক ছুটে এসে নদীর জল দ্রুত বাড়ার খবর দিতেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের সতর্ক করেন। সমস্ত শ্রেণিকক্ষ খালি করে পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রায় ১৬৪৩ জন পড়ুয়ার দায়িত্ব তখন তাঁর (Rajendra Dawadi) কাঁধে।

বাসচালকদেরও ডেকে পাঠানো হয়। তবে এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দূর থেকে দেখা যায়, তাঁর বাসটি তখন সেতু পার হচ্ছে। প্রবল স্রোতের দিকেই এগিয়ে যাওয়া সেই বাসের পরে আর কোনও সন্ধান মেলেনি।

আরও পড়ুন: মোদীকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, ইউরেনিয়াম চুক্তি থেকে ভিসামুক্ত প্রবেশ—দু’দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

এর মধ্যেই এক ছাত্রীর আতঙ্কজনিত কারণে প্যানিক অ্যাটাক হলে তাঁকে মোটরসাইকেলে নিরাপদ জায়গায় পাঠানো হয়। পরে বাকি পড়ুয়াদের নিয়ে আরও উঁচু এলাকায় চলে যান রাজেন্দ্র (Rajendra Dawadi)  । একটি গাছের নীচে আশ্রয় নেন সকলে। তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। প্রবল জল ও কাদার স্রোত গর্জন করতে করতে স্কুলভবনের উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তে ভেঙে পড়ে স্কুলের বড় অংশ। কিন্তু তার আগেই ১৬৪৩ পড়ুয়াকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দিতে সক্ষম হন রাজেন্দ্র।

তবে সবাইকে বাঁচাতে পারেননি তিনি (Rajendra Dawadi) । এক শিক্ষক বাড়ির পাশে জলখাবার তৈরি করতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান। পড়ুয়ারা বেরিয়ে যাওয়ার পর স্কুলের দরজা বন্ধ করতে যাওয়া এক সাফাইকর্মীও নিখোঁজ হন। ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ রাজেন্দ্রের (Rajendra Dawadi) , ‘আর কীই বা করতে পারতাম আমি!’ কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে তাঁর সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে করে তুলেছে ‘ত্রিশূলীর হিরো’।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের (Napal Flash Flood) ধাক্কা সামলে অবশেষে মুম্বাইয়ে ফিরেছেন মহারাষ্ট্রের ৪১ জন পর্যটক। কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। শনিবার মুম্বাই বিমানবন্দরে পৌঁছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান কয়েকজন পর্যটক। দীর্ঘ সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকা পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন।

গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আচমকাই হড়পা বান নামে (Napal Flash Flood)। প্রবল জল ও কাদার স্রোতে গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গিরংয়ের অভিবাসন দপ্তরও কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। কৈলাস যাত্রার পথে এই দপ্তরেই প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয় পর্যটকদের।

আরও পড়ুন: নেতাজির পাশে বিউগল বাজাতে দেখা যায়- এই ব্যক্তিকে চেনেন, এঁর উত্তরাধিকারী কোথায় জানেন?

মহারাষ্ট্র প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে (Napal Flash Flood), রাজ্য থেকে মোট ৪০৪ জন পর্যটক নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন বলে প্রশাসনের দাবি। ইতিমধ্যে ৩৩৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ধাপে ধাপে পর্যটকদের নেপাল থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

বোরিবলীর বাসিন্দা সুবোধ শাঠের স্ত্রী শ্যামাও ওই দলে ছিলেন। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা উদ্বেগে কাটানোর পর স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন সুবোধ। তাঁর কথায়, স্ত্রীকে চোখের সামনে দেখে ফের ভরসা পেয়েছেন তিনি।

পর্যটক স্মিতা পওয়ার জানান, তাঁরা নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দলের কয়েক জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। সেই কারণে যাত্রাপথে কিছুটা দেরি হয়। স্মিতার দাবি, যে সময়ে তাঁদের গিরং সীমান্তে পৌঁছনোর কথা ছিল, ঠিক সেই সময়েই হড়পা বান আছড়ে পড়ে। ফলে তাঁরা বিপর্যয় থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।

স্মিতা আরও জানান, বিপর্যয়ের কারণে তাঁরা তিব্বতের সাগায় আটকে পড়েছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘ঈশ্বরই আমাদের এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছেন।’ একের পর এক পর্যটক দেশে ফিরতে শুরু করায় তাঁদের পরিবারগুলির উদ্বেগও ধীরে ধীরে কাটছে।

দেখুন: নেপালের বিপর্যস্ত টানেলে উদ্ধারকাজে ভারত, নেপাল সেনার সঙ্গে যৌথ তল্লাশি