• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

‘দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে’, যাদবপুর নিয়ে সাফ বার্তা দিলীপের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর পঞ্চায়েতমন্ত্রী ওই ক্যাম্পাসে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এখন দিলীপ ঘোষের গলায়

‘দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে’, যাদবপুর নিয়ে সাফ বার্তা দিলীপের

Panchayat Minister Dilip Ghosh Photo-SNS

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা আছে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান। এই কথাই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এইসব স্লোগানকে তিনি ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর দেওয়াল লিখন মোছার কাজ হয়। স্লোগানের উপর পড়ে চুনকাম। সোমবার যাদবপুরের পড়ুয়ারা আবার ‘দেওয়াল দখল’ করার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সংঘাত বাড়ছে। এবার আবার জ্বলজ্বল করে উঠল নীল কালিতে লেখা কার্ল মার্কসের উক্তি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের দাবি, নকশালপন্থীরাই এসব লিখেছে। যদিও এই নতুন দেওয়াল লিখনে ভুল কিছু দেখছেন না রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

গত কদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ যেভাবে উত্তপ্ত হয়েছে তারপর দেশবিরোধী স্লোগান মোছা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে ভারত বিরোধী স্লোগান মুছে ফেলা হচ্ছে, সেভাবেই দেশবিরোধী নকশালপন্থী, মাওবাদীদের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলার কাজ এবিভিপি করবে। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রাতঃভ্রমণ করতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রথমবার তো এরকম হলো। ওখানে অ্যান্টি ন্যাশনাল স্লোগান মোছার প্রয়োজন মনে করেছে সরকার, তাই করেছে। এর আগে তো কেউ চেষ্টাও করেনি। যারা ক্যাম্পাসকে দখল করে এতদিন এখানে অ্যান্টি ন্যাশনাল মুভমেন্টের কেন্দ্র তৈরি করেছিল। তারা তো একটা বার্তা পেয়েছে, এটা চলবে না। দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে। আর কার্ল মার্কসের নীতি লেখা তো এখানে ব্যান হয়ে যায়নি। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা, ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা, এটা তো ভারত সরকার বরদাস্ত করবে না।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর পঞ্চায়েতমন্ত্রী ওই ক্যাম্পাসে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এখন দিলীপ ঘোষের গলায় যাদবপুরের দেওয়াল লিখন নিয়ে শোনা গেল অন্য সুর। তার মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে নতুন করে লেখা হয়েছে কার্ল মার্কসের উক্তি। যা নিয়ে দিলীপ ঘোষের সাফ বার্তা, ‘দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে। আর কার্ল মার্কসের নীতি লেখা তো এখানে ব্যান হয়ে যায়নি।’

তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনার পর বলেছিলেন, ‘আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি। আমাদের বিদ্যার্থী পরিষদ দিল্লির জেএনইউ, হায়দরাবাদের ওসমানিয়া, সবাইকে শুধরে দিয়েছে। যাদবপুর এখনও বাকি। এটাও হয়ে যাবে। এত সাহস, আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে রেড স্যালুট কিষেণজি। কে এই কিষেণজি? যিনি গোমতী থেকে গোদাবরী, আলাদা রাষ্ট্র তৈরির কথা বলতেন, সেই কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেবেন। আর ফ্রি প্যালেস্টাইন? ওই জায়গায় আগে লিখুন, ফ্রি ফ্রি পাক অকুপাইড কাশ্মীর। উচ্চশিক্ষা দপ্তর দেখছে। আমিও দেখছি।’