• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 5 November, 2026

উৎসবের মরশুমে বাড়ল চিনির দাম, মহানগরীর দোকানে গিয়ে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন গৃহস্থরা

তবে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রেশনে সস্তায় চিনি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। চিনি, সুজি এবং ময়দা তিনটি খাদ্যসামগ্রী ৬৫

উৎসবের মরশুমে বাড়ল চিনির দাম, মহানগরীর দোকানে গিয়ে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন গৃহস্থরা

Sugar Price Hike Photo-SNS

গৃহস্থরা এখন দোকানে গিয়েও ছ্যাঁকা খাচ্ছেন। কারণ চিনির দাম মারাত্মক হারে বেড়েছে। চিনির দাম বাড়লে মিষ্টির দাম বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। এমনিতেই বাজারে গিয়ে গৃহস্থদের পকেটে চাপ পড়েছিল। এবার তার সঙ্গে যোগ হল চিনির ছ্যাঁকা। তাই চা পান করার ক্ষেত্রেও মেপে করতে হচ্ছে। কম চিনি দিয়েই সারতে হচ্ছে সকালের চা এবং জলখাবার। এখন উৎসবের মরশুম। সবে দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। এখন সামনে কালীপুজো, দীপাবলি, ভাইফোঁটা পর পর রয়েছে। সেখানে চিনির দাম বাড়ায় মিষ্টিমুখ করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। উৎসবের মরসুমে চিনির সরবরাহ সংকট না রাখতে উদ্যোগী হয়েছিল কেন্দ্র। একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। তা সত্ত্বেও গত একমাসে খুচরো এবং পাইকারি বাজারেই চিনির দাম কেজি প্রতি ৪ টাকারও বেশি বেড়েছে বলছে ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের হিসাব।

এখন বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দাম বেশ বেড়েছে। ডিম একটা ৭ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এই আবহে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুখ থেকে আর মিষ্টি কথা বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষের। ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, এখন নয়াদিল্লিতে চিনির দৈনিক গড় দাম খুচরো বাজারে ৫৯.৫০ টাকা। পাইকারি বাজারে চিনির গড় দৈনিক দর দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪০ টাকা। এখানেই শেষ নয়, চিনির দাম সব থেকে চড়া কলকাতাতেই। উৎসবের মরসুমে তাই কপালে ভাঁজ ফেলেছে মধ্যবিত্তের। কলকাতায় চিনি কেজি প্রতি প্রায় ৬৫ টাকা। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি।

তবে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রেশনে সস্তায় চিনি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। চিনি, সুজি এবং ময়দা তিনটি খাদ্যসামগ্রী ৬৫ টাকায় রেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চিনি মিলবে মাত্র ১ কেজি। বাড়তি নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই উৎসবের মরশুমে সব বাঙালির বাড়িতেই একটু বেশি লাগে। কারণ বাড়িতে আত্মীয় আগমন ঘটে থাকে। তখন চা-সহ নানা খাবার দিতে হয়। মিষ্টি তো পাতে থাকেই। এমনকী পায়েস করা হয়। সেখানে চিনি বেশিই লাগে। এমনকী মধ্যাহ্নভোজের পাতে চাটনি তো থাকবেই। সুতরাং এক কেজি চিনি নিতান্তই কম। তাই বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। তাতেই পকেটে চাপ বাড়ছে।

তাছাড়া ২০২৫-২৬ মরসুমে চিনির উৎপাদন তুলনামূলক আগের থেকে কম হওয়ায় দাম চড়া হয়েছে। উৎসব মরশুমের চাহিদা, ফসল নষ্ট হওয়া, বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট এবং মজুতদারির জেরে মূল্যবৃদ্ধির চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কোঅপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মরসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) প্রথম মাসে ভারতে ৮.৪৫ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।