• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 5 November, 2026

বিরাট কোহলির চোখে জীবনের সেরা ওয়ান ডে ইনিংস কোনটি? পিছনে ফেললেন ১৮৩, ১৩৩-সহ একাধিক মহাকাব্যিক ইনিংস

কোনও সেঞ্চুরি নয়, এমনকী হাফ সেঞ্চুরিও নয়! মাত্র ৪৩ রানের একটি ইনিংসকেই নিজের সেরা বলে বেছে নিলেন তিনি। তাও আবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে

বিরাট কোহলির চোখে জীবনের সেরা ওয়ান ডে ইনিংস কোনটি? পিছনে ফেললেন ১৮৩, ১৩৩-সহ একাধিক মহাকাব্যিক ইনিংস

Image: X

ব্যাট হাতে কত সেঞ্চুরি করেছেন! কত অসম্ভব রান তাড়া করে ভারতকে জিতিয়েছেন! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৩৩, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৬০— বিরাট কোহলির (Virat Kohli) ওয়ান ডে কেরিয়ারে এমন অসংখ্য ইনিংস রয়েছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যাবে। কিন্তু নিজের সেরা ওয়ান ডে ইনিংস বেছে নিতে গিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন ভারতীয় ব্যাটার।

কোনও সেঞ্চুরি নয়, এমনকী হাফ সেঞ্চুরিও নয়! মাত্র ৪৩ রানের একটি ইনিংসকেই নিজের সেরা বলে বেছে নিলেন তিনি। তাও আবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।

বৃহস্পতিবার ৩৮ বছরে পা দিয়েছেন কোহলি (Virat Kohli)। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সামনে একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ রেখেছিল সম্প্রচারকারী সংস্থা স্টার স্পোর্টস। ‘উইনার স্টেজ অন’ নামের সেই পর্বে নিজের কেরিয়ারের একাধিক স্মরণীয় ইনিংসের মধ্যে থেকে সেরাটি বেছে নিতে বলা হয় তাঁকে। একের পর এক ইনিংসকে পিছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত ২০১৩-র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলা ৪৩ রানের ইনিংসকেই সবার উপরে রাখেন কোহলি (Virat Kohli)।

শুরুতেই কোহলির (Virat Kohli) সামনে রাখা হয়েছিল ২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ১৩৩ এবং ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে করা ৩৫ রানের ইনিংস। হোবার্টে ৩২১ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪০ ওভারে তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেই ম্যাচে কোহলির (Virat Kohli) ইনিংস ছিল অসাধারণ। তবু বেছে নেন ২০১১-র বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকে।

আরও পড়ুন: ১৮ বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় দিয়ে শুরু, শচীনের রেকর্ড ভেঙে জন্মদিন পালন বিরাটের

কেন? কারণ, সেই ম্যাচে ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩১ রানের মধ্যে দু’টি উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। শচীন তেন্ডুলকর এবং বীরেন্দ্র সেহবাগ ফিরে যাওয়ার পরে চাপে পড়ে যায় দল। সেই পরিস্থিতিতে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ৮৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন কোহলি। গম্ভীর করেছিলেন ৯৭ রান। শেষ পর্যন্ত ২৮ বছর পরে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।

এর পরেও কোহলি (Virat Kohli) নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ রান এবং ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২২ রানের দুরন্ত ইনিংসকেও পিছনে রাখেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকে। এমনকি ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেপটাউনে করা ১৬০ রানের ইনিংসও তাঁর প্রথম পছন্দ হয়নি। সেই ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে মাত্র ৬০ রান এসেছিল। বাকি ১০০ রান দৌড়ে নিয়েছিলেন কোহলি।

সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল শেষ পর্বে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানের ইনিংসের সঙ্গে তুলনায় আসে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩ রান। এ বার আর দ্বিধা করেননি কোহলি। বেছে নেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইনিংসটিকেই।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ৫০ ওভার থেকে কমিয়ে ২০ ওভারের করা হয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬৬ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ভারত। সেই পরিস্থিতিতে ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন কোহলি (Virat Kohli)। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে গড়েন ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। জাদেজাও করেন ৩৩ রান।

আরও পড়ুন: এক ম্যাচে ৫১টি লাল কার্ড! ফুটবল মাঠে নজিরবিহীন কাণ্ড ব্রাজিলে, গিনেসের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার দাবি

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তোলে ভারত। জবাবে ইংল্যান্ডকে ১২৪ রানে আটকে দিয়ে পাঁচ রানে ম্যাচ জেতে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই ফাইনাল জয়ের পিছনে কোহলির (Virat Kohli) ইনিংসের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

কোহলির (Virat Kohli) পছন্দের তালিকায় জায়গা হয়নি ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করা ১৮৩ রানের ইনিংসেরও। ৩৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৭ রান এবং একই বছর চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৩৮ রানের ইনিংসও পিছনে পড়ে যায়। উল্লেখযোগ্য, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার কোহলি।

অর্থাৎ, যে ব্যাটারের ঝুলিতে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে, তাঁর নিজের চোখে সেরা ইনিংসটি মাত্র ৪৩ রানের! পরিসংখ্যানের বিচারে হয়তো এই ইনিংস তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব নয়। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি, চাপ এবং ট্রফি জয়ের গুরুত্বের বিচারে সেই ৪৩ রানই কোহলির  (Virat Kohli) কাছে অমূল্য। তাঁর এই পছন্দ বুঝিয়ে দিল, ক্রিকেটে সব সময় বড় রানই সেরা ইনিংসের মাপকাঠি হতে পারে না।

দেখুন: