• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 1 November, 2026

সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধির চাপ

মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও অন্যান্য তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি বিল ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধির চাপ

Vegetables Price Hike Photo-ANI

ভারতে মূল্যবৃদ্ধির (মুদ্রাস্ফীতি) চাপ সাধারণ এবং বিশেষকরে গরীব ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য এবং অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি (Retail Inflation) আগস্টের ৪.৮৩% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৫.৫৪%-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি (Food Inflation), যা একলাফে ৭.৭৪% হয়েছে। গরীব পরিবারগুলোর আয়ের সিংহভাগই খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ব্যয় হয়, ফলে এই পরিস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সবচেয়ে বেশি সংকটে ফেলছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধির জেরে সেপ্টেম্বরে দেশে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ। গত আগস্টে এই হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ। সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে বেড়ে গেছে ৭.৭৪ শতাংশ। পেঁয়াজ, আদা, রসূন ও লেবুর মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের সংসার চালানোর খরচ আরও বেড়েছে।

নতুন উপভোক্তা মূল্যসূচক চালু হওয়ার পর এই প্রথম খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ শতাংশের গণ্ডি ছাড়াল। চলতি বছরে এখনও অবধি এটাই সর্বোচ্চ হার। খাদ্যে মূল্য বৃদ্ধির হার আগস্ট থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে সেপ্টেম্বরে। এ মাসে সেটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, গ্রামাঞ্চলে মূল্য বৃদ্ধি শহরাঞ্চল থেকে বেশি। অথচ আগে ঠিক বিপরীত ধারা দেখা যেত। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ায় সংসার খরচের চাপও সেখানে বেশি। অথচ সেখানে মানুষের রোজগারও শহরের তুলনায় অনেক কম। ফলে তাদের সংসার চালাতে কালঘাম ছুটছে। খাদ্য পণ্যের দামবৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং উৎপাদন ও পরিবহন খরচের ঊর্ধ্বগতি— সব মিলিয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ ছড়িয়ে পড়ছে অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সুদের হার বাড়িয়ে (রেপো রেট) মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতি-প্রকৃতির উপর নির্ভর করছে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের সংসার খরচের চাপ কতটা কমবে।

খুচরোর পরে পাইকারি বাজারেও মাথা তুলেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। আগস্টের ৯.৯২% থেকে এক লাফে পৌঁছে গেল ১১.৩৯ শতাংশে। ১৪ অক্টোবর, কেন্দ্রের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দাবি, এর জন্য দায়ী মূলত খাদ্যপণ্য, কারখানায় তৈরি সামগ্রী, জ্বালানি ও বিদ্যুতের চড়া দাম। সরকারি হিসাব বলছে, গত মাসে শুধু খাদ্যপণ্যই বেড়েছে ৮.৬৬% হারে। কারখানা উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি ৯.৭৬% আর জ্বালানি-বিদ্যুতের ২৫.৮৫%।

পাইকারি দরের এই তথ্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, আগামীদিনে খুচরো বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকছেই। দুর্ভোগ বাড়বে মানুষের। এমনিতেই বাজারহাটে খাদ্যপণ্য-সহ দৈনন্দিন সব কিছু মহার্ঘ হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ৫.৫৪% ছুঁয়ে ফেলেছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি। ফলে পরিস্থিতি সুবিধার নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও বিষয়টি ভাবাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর পথ চওড়া হচ্ছে। এ মাসে এক দফা বাড়িয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ডিসেম্বরের ঋণনীতিতে আরও এক দফার আশঙ্কা বাড়ল। সে ক্ষেত্রে সাধারণ রোজগেরে ঋণগ্রহীতাদের ধার শোধের মাসিক কিস্তি (ইএমআই) খাতে খরচ চড়বে।

মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও অন্যান্য তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি বিল ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা দেশগুলির উপর আমেরিকার সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের বিষয়টি অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের মতে, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল এখন ক্রমশ অর্থনৈতিক নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।