কথা দিয়েছিলেন আসবেন। আর স্বয়ং উপস্থিত হয়ে সেই কথা রাখলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরনগরে এলেন তিনি। রবিবাসরীয় বারবেলায় পুজো দিলেন, আরতি করলেন এবং শেষে সম্মেলনে যোগ দিলেন। হ্যাঁ, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাগদার বিজেপি বিধায়ক সোমা ঠাকুরের আমন্ত্রণে এদিন ঠাকুরনগরে আসেন তিনি। ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেওয়ার কাজ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। আর সেখানেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করার জন্য প্রাক্তনকেই দায়ী করেন তিনি। এমনকী তাঁর দাবি, গত সরকার মতুয়াদের জন্য কিছুই করেনি। বরং সিএএ-র বিরোধিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে রবিবার দুপুরে বনগাঁর ঠাকুরনগরের নাটমন্দিরে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পঞ্চপ্রদীপ দিয়ে আরতি করেন। তারপরে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। এই কাজের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার তৈরির করার জন্য মতুয়াদের অবদান স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার জন্য গোটা মতুয়া সমাজকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের ৭০টি বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়ারা আমাদের জয়ী করেছেন। এই সরকার আপনাদের সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো ঠাকুরবাড়িকে বিভাজন করতে দেব না। বনগাঁ রানাঘাট বারাসতের জেলে যদি এমন কোনও মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষ থাকেন, যিনি বিনা বিচারে জেল খাটছেন, তাহলে আমরা তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করব। জমি দেব। বাড়ি তৈরি করে দেব। মতুয়া বোর্ড পুনর্গঠন করে মতুয়াদের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। আপনারা যে কোনও প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন। নিশ্চিত থাকুন। কাজ হয়ে যাবে।’
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, গত সরকারের আমলে মতুয়া সমাজের উপর ব্যাপক অত্যাচার করা হয়েছে। মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁরাই পরিবারকে ভেঙেছেন। সিএএ-র বিরোধিতা করেছেন। মতুয়াদের জন্য যখন সিএএ করতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার তখন এখান থেকে বিরোধিতা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাই নিয়ে মিছিল পর্যন্ত করা হয়েছিল। আসলে সিএএ মানুষের ভাল করার জন্যই। নাগরিকত্ব দিতেই তা করা হয়েছিল।
তাছাড়া এখন মানুষ সব বুঝতে পারছেন বলেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের উন্নয়ন করতে দেননি। তিনি মতুয়া পরিবারকে ভেঙেছেন। মতুয়াদের বিভক্ত করেছেন। বরং সিএএ-র প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করেছেন। তাই আমি এখানে এসে মতুয়াদের জন্য কিছু করতে এসেছি। কিছু ঘোষণা করব। মতুয়াদের জন্য কিছু করতে পারা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’




