১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। তা নিয়ে গোটা দেশেই নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। ৭৭ বছর বয়সে পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের জন্মদিনে বিশেষ করে বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেমনভাবে বাংলার মহিলারা তাঁকে ভরসা জুগিয়েছেন, কেমনভাবে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বৃহস্পতিবার সবটা ব্যক্ত করলেন মোদী। এদিনই বাংলায় পালিত হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা দিবস। বাংলায় চালু হচ্ছে বিশ্বকর্মা যোজনা দিবসও। প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসী সুর চড়িয়ে জানিয়ে দেন, এখন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের জেরেই আজ আর রাজ্যবাসীকে সরকারি সুবিধার জন্য কোনও কাটমানি দিতে হচ্ছে না।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে বাংলায় উদযাপিত হচ্ছে অন্নপূর্ণা দিবস। সল্টলেকে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। সেখানে ভার্চুয়ালি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে মহিলাদের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমাদের মূল মন্ত্র কথা কম কাজ বেশি। আমরা জানি জরুরি খরচ নিয়ে চিন্তা না থাকলে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সেই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে কাটমানি দিতে হয়। তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণও করতেন। এবার তাঁর মুখে শোনা গেল কাটমানির কথা। পশ্চিমবঙ্গে আসলেই পরিবর্তন হয়েছে সেটা বোঝাতে বললেন, ‘বাংলায় আর কাটমানি লাগে না।’
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি কথা দিয়েছিল, বাংলায় তাঁরা ক্ষমতায় এলে মহিলারা প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন। কথা রেখেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। জুন মাস থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে ৩ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে রাজ্যে উদযাপন করা হচ্ছে অন্নপূর্ণা দিবস। বিধাননগরের বইমেলা প্রাঙ্গণে মেগা অনুষ্ঠান চলছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের একঝাঁক মন্ত্রী। সেখানেই ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কেমনভাবে মহিলাদের শক্তি হয়ে উঠেছে সেই কথাই তুলে ধরলেন তিনি। সেখানেই নরেন্দ্র মোদীর বার্তা, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দৈনন্দিন বা জরুরি সাংসারিক খরচ নিয়ে মাথায় চিন্তার বোঝা না থাকলে মানুষের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজ্য সরকারের চালু করা অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প আজ বাংলার মা-বোনেদের সেই আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোগাচ্ছে। বাংলার মানুষ এক নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। আর এই পরিবর্তনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা ছিল মা-বোনেদের। তাই আমাদের সরকারের প্রথম শপথই হল-কথা কম, কাজ বেশি।’
তাছাড়া এদিনও বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। তাতে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের উদ্দেশে বললেন, ‘দেড় কোটি মানুষের অ্যাকাউন্টে আজ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের চতুর্থ কিস্তির টাকা ঢুকেছে। এটা কোনও মায়ের জন্য বাচ্চার পড়ার খরচ। কোনও বোনের জন্য ওষুধ বা পরিবারের অন্যান্য দরকারি জিনিসের খরচ। এই ভাবনা থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু করা। কোটি কোটি মানুষ আজ উপকৃত। সরকার গঠনের কদিনের মধ্যেই এই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হয়েছে এবং আজ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছচ্ছে। মাঝখানে কোনও দালালি নেই, কোনও কাটমানি নেই। এখন আর বাংলায় কাটমানি চলে না। আমরা একসঙ্গে নতুন বাংলা গড়ব! বিকশিত বাংলার সামর্থ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হবে বিকশিত ভারতের সংকল্প। আজ আমি সত্যিই খুবই উচ্ছ্বসিত। বাংলার মা-বোনেরা সবসময়ই আমাকে ভালবাসা, স্নেহ উজাড় করে দিয়েছেন। ওনাদের আত্মীয়তাবোধ আমাকে সর্বদাই শক্তি জুগিয়েছে। আমার শক্তি, আপনাদের ভরসা।’




