• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

পাঁচ রাজ্যে ৬৫৬ কিমি নতুন রেললাইন, ১০ হাজার কোটির বেশি বরাদ্দের অনুমোদন মিলল

শুধু শিল্প ও পণ্য পরিবহণ নয়, পর্যটনেও এর প্রভাব পড়বে বলে কেন্দ্রের দাবি। বান্ধবগড় ও অচানকমার ব্যাঘ্র প্রকল্প, অমরকণ্টক এবং

পাঁচ রাজ্যে ৬৫৬ কিমি নতুন রেললাইন, ১০ হাজার কোটির বেশি বরাদ্দের অনুমোদন মিলল

PM Modi Photo-ANI

কয়লা, লোহা, ইস্পাত থেকে শুরু করে সিমেন্ট – দেশের শিল্পাঞ্চলগুলিতে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত করতে রেলপথের ক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটল কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্যে মোট ৬৫৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন তৈরির ৩টি প্রকল্পে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পগুলিতে মোট খরচ হবে ১০,৭৮৩ কোটি টাকা। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন লাইন চালু হলে বছরে প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব হবে। ফলে শিল্পের কাঁচামাল এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য সরবরাহের গতি বাড়ার পাশাপাশি রেলের উপর নির্ভরশীল শিল্পাঞ্চলগুলিও উপকৃত হবে। প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৪,৭৯০টি গ্রাম এবং ৫৬ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিসগড়ের ১৪টি জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে। খড়্গপুর-ঝাড়সুগুড়া অর্থাত বাগডিহি এবং কাটনি-পেন্দ্রা রোডে চতুর্থ লাইন তৈরি হবে। পাশাপাশি বিলাসপুর (উসলাপুর)-পেন্দ্রা রোডে তৈরি হবে তৃতীয় লাইন। মূলত ইতিমধ্যেই ব্যস্ত এই রুটগুলিতে অতিরিক্ত ট্র্যাক তৈরি করে রেলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোই প্রকল্পের লক্ষ্য।

শুধু শিল্প ও পণ্য পরিবহণ নয়, পর্যটনেও এর প্রভাব পড়বে বলে কেন্দ্রের দাবি। বান্ধবগড় ও অচানকমার ব্যাঘ্র প্রকল্প, অমরকণ্টক এবং রতনপুর মহামায়া মন্দিরের মতো পর্যটন ও ধর্মীয় গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, রেলের অতিরিক্ত পরিকাঠামো তৈরি হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহণের চাপও কমবে। এর ফলে লজিস্টিক খরচ ও জ্বালানি ব্যবহার কমার পাশাপাশি দূষণও কমবে। প্রকল্পগুলি থেকে বছরে প্রায় ১২ কোটি লিটার জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রায় ৬২ কোটি কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘পিএম গতি শক্তি’ জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।