নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবার রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। ঠিক তার আগে বুধবার বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হলো ২৬৩ সদস্যের এক বিস্তৃত রাজ্য কমিটির তালিকা। আর চমক রয়েছে সেখানেই। পশ্চিমবঙ্গের সাতজন মন্ত্রী এবং দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রয়েছেন কমিটিতে। ৩৩ জন বিধায়কের পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবারে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসও জায়গা পেয়েছেন রাজ্য কমিটিতে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই তালিকায় আরও চমক রয়েছে।
নতুন প্রকাশিত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের মতো প্রভাবশালী নেতৃত্বরা। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতি থাকলেও জায়গা পেলেন না অভিজ্ঞ বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত রাজ্য কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজ্য বিজেপি সভাপতি করা হয়েছিল শমীককে। রাজ্য সভাপতি ঘোষণার ১৪ মাস পরে রাজ্য কমিটি গঠিত হলো।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত একমাস দেশজুড়ে নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর মেয়াদের পূর্তি স্মরণে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ শীর্ষক যে জনসংযোগ প্রকল্প রূপায়িত হবে সেটা রূপায়ণের কৌশল স্থির করতেই নীতিন নবীনের এই বঙ্গ সফর। রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে বিধানসভা উপনির্বাচন এবং পুরভোটের স্ট্র্যাটেজিও তৈরি করবেন তিনি। তবে তার আগেই ঘোষণা করা হলো রাজ্য কমিটি।
তাহলে চমকটা কোথায়? রাজ্য কমিটির তালিকায় নাম রয়েছে এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নবীন-প্রবীন মিলিয়ে। রাজ্য কমিটিতে শুভেন্দু অধিকারীকে তমলুক সাংগঠনিক জেলা, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে দক্ষিণ দিনাজপুর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে বনগাঁ, রাজ্যের মন্ত্রীদের মধ্যে তাপস রায়কে উত্তর কলকাতা, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে বীরভূম, নিশীথ প্রামাণিককে কোচবিহার, অগ্নিমিত্রা পালকে আসানসোল, দীপক বর্মণকে আলিপুরদুয়ার, শঙ্কর ঘোষকে শিলিগুড়ি এবং অরুপ কুমার দাসকে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারীকেও কাঁথির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য নেতাদের মধ্যে সুরেন্দ্র সিং আহলুওয়ালিয়াকে বর্ধমান, রাজকমল পাঠককে দক্ষিণ কলকাতা, মীনাদেবী পুরোহিতকে উত্তর কলকাতা, রুদ্রনীল ঘোষকে হাওড়া শহর এবং অভিজিৎ দাসকে (ববি) ডায়মন্ডহারবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।




