• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 22 September, 2026

জামুইয়ে নাবালিকা হেনস্থার ঘটনায় নাটকীয় মোড়, পুলিশের গুলিতে জখম মূল অভিযুক্ত

বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়াকে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্থা ও নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে

জামুইয়ে নাবালিকা হেনস্থার ঘটনায় নাটকীয় মোড়, পুলিশের গুলিতে জখম মূল অভিযুক্ত

বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়াকে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্থা ও নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব। ভাইরাল ভিডিয়োয় কমলা রঙের পাগড়ি পরে নাবালিকাকে নির্যাতন করতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভোররাতে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে নন্দন। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশের বিশেষ দল। দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে নন্দনের পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামুইয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত আরও দু’জন নাবালক। তাদেরও চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকিদের খোঁজে বিশেষ তদন্তকারী দলের অভিযান চলছে।

ঘটনার যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, তাতে দুই পড়ুয়ার উপর একদল যুবকের নির্যাতনের ছবি ধরা পড়েছে। দেখা যায়, এক যুবক নাবালক ছাত্রটির জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করছে। অন্য এক অভিযুক্ত নাবালিকা ছাত্রীর গলা চেপে ধরে তাকে মাটিতে আছাড় মারার চেষ্টা করছে। ধস্তাধস্তির মধ্যেই ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, দুই পড়ুয়া বার বার ক্ষমা চেয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। এরপর স্কুটারে করে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাদের পিছু নেয় এবং হাত ধরে টেনে নামিয়ে আনে। ভিডিয়োয় নাবালিকাকে বলতে শোনা যায়, তারা আর কখনও ওই এলাকায় আসবে না। পরে সেই ভিডিয়োই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, এই ধরনের আচরণ করার অধিকার অভিযুক্তদের কে দিয়েছে।

নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিহার সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। রাহুলের অভিযোগ, নারীদের স্বাধীনতা ও চলাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ চাপানোর মানসিকতাকে সংস্কৃতির নাম দেওয়া হচ্ছে। সেই মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত রাস্তায় দুষ্কৃতীদের নিজেদের আইন চালানোর সাহস জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

জামুইয়ের ঘটনায় বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনও নড়েচড়ে বসেছে। ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। ফলে গ্রেফতারি ও মূল অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর।