টানা দ্বিতীয়বার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের পর মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হল নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি আরও মজবুত হওয়ার বার্তাই এই ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গুয়াহাটির খানাপাড়ার ভেটেরিনারি কলেজ ময়দানে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এছাড়াও এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
Advertisement
শপথ নেওয়ার পর হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, আসামের উন্নয়ন, পরিকাঠামো বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সরকার কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, মানুষের আস্থা এবং সমর্থনই বিজেপিকে এই বিপুল জয় এনে দিয়েছে।
Advertisement
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট উত্তর-পূর্বে অন্যতম শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি আসামে সংগঠন এবং প্রশাসনিক দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
শপথগ্রহণ মঞ্চ থেকেই কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়নমূলক কাজের উপর জোর দেন বিজেপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আসামের উন্নয়ন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অগ্রগতিকে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার কড়াকড়িও ছিল চোখে পড়ার মতো। গুয়াহাটির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। খানাপাড়া চত্বরে বহু মানুষ নতুন সরকারকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হিমন্ত বিশ্বশর্মার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে নির্বাচনের ফল এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে যে উত্তর-পূর্বে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।
Advertisement



