একদিকে বহু বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেত্রীর গ্রেপ্তারি, অন্যদিকে শীর্ষ মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পণের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন বিজেবিভিআরসি রিজিওনাল কমিটির সদস্যা শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে ‘বেলা’। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের কাছেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর কাশিপুর এলাকা থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবেই চিহ্নিত ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১৫ লক্ষ টাকা।
Advertisement
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানান, বেলার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানায় ২০টিরও বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, একসময় পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় থাকলেও ২০০৪-০৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের গা-ঢাকা দেন তিনি। তারপর থেকেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের হয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
Advertisement
বর্তমানে প্রায় ৬০ বছর বয়সী বেলা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ রাখছিলেন, শহর বা রাজ্যের কোথাও কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। খুব শীঘ্রই ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি দল কলকাতায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, একই দিনে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই পাত্র। ২০০৭ সাল থেকে তিনি মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে মাধাই বলেন, সংগঠনের ভিতরের আদর্শগত পরিবর্তন এবং সাধারণ জীবনে ফেরার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘সারেন্ডার অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’ নীতির আওতায় মাধাইকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তা মহলের একাংশের মতে, একদিকে শীর্ষ নেত্রীর গ্রেপ্তারি এবং অন্যদিকে এক মাও নেতার আত্মসমর্পণ, এই দুই ঘটনাই স্পষ্ট করছে, জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী সংগঠনের ভিত আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
Advertisement



