ইভিএম ট্যাম্পারিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সমাজমাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলা পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা গর্গ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দেশপ্রিয় পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রথমে ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগ কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের হাতে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচনের সময় ইভিএম সংক্রান্ত একাধিক বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেছিলেন গর্গ। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরির মতো মন্তব্যও সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
Advertisement
গর্গকে গ্রেপ্তারের পর বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। তিনি জানান, গর্গকে দু’বার নোটিস পাঠিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি। তার পরেই মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেই পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। উনি বার বার বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিয়ে পোস্ট করছিলেন। সেই পোস্টগুলিতে বিভেদমূলক ভাবনা ছিল। সেই সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হচ্ছে।’
Advertisement
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ইভিএমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ। তাঁর দাবি ছিল, ভোটের পর সিল করে রাখা ইভিএম গণনার সময়ে কী ভাবে ‘খারাপ’ হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েও তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি ভোটারদের ভিভিপ্যাট ভাল করে দেখে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছিল বাংলা পক্ষ। সংগঠনের দাবি ছিল, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে শোভাযাত্রার অনুমতি চেয়েও কমিশনের কাছ থেকে ছাড়পত্র মেলেনি। যদিও তদন্তকারীদের বক্তব্য, ভোট চলাকালীন গর্গের বিভিন্ন মন্তব্য আদর্শ আচরণবিধি এবং সাইবার আইন লঙ্ঘনের সামিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, গর্গকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হতে পারে আদালতে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে করা একাধিক পোস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement



