২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সম্পন্ন হল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের সরকারি তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপালের হাতে তুলে দিল নির্বাচন দপ্তর। এর ফলে নতুন সরকার গঠনের পথ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বুধবার সকালে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির হাতে এই তালিকা জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ২৯৩টি বিধানসভা আসনের গেজেট নোটিফিকেশনও রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
Advertisement
এই তালিকায় এবারের নির্বাচনে জয়ী সমস্ত বিধায়কের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকা জমা পড়ার পরই সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যায়। রাজ্যপাল এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
Advertisement
লোকভবন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৈঠকে নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল, ভোটের পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দিক রাজ্যপালের সামনে তুলে ধরেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ সম্পর্কেও রাজ্যপাল তথ্য নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানেই রাজ্যের পরিস্থিতি থাকে। কোনও দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে রাজ্যপাল সেই দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান। আর যদি কোনও দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে বৃহত্তম দল বা জোটকে সুযোগ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা হয়।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছেন, গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তনের পর রবীন্দ্র নারায়ণ রবি রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম এত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক হল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক এবং তালিকা জমা দেওয়ার ঘটনা নতুন সরকারের শপথগ্রহণের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে।
সব মিলিয়ে, বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের তালিকা জমা দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
Advertisement



