• facebook
  • twitter
Thursday, 7 May, 2026

নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়, রাজ্যের পালাবদল প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শিশির অধিকারী

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জয়ের পর নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। রেয়াপাড়া ও হরিপুরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে উৎসবের আবহ।

ফাইল চিত্র

বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ের পর নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বিজেপির বিজয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর রেয়াপাড়া ও হরিপুরের বিজেপি কার্যালয়গুলিতে তাঁকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কর্মী-সমর্থক, মাতৃশক্তি এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এলাকায় কার্যত জনজোয়ার দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছতেই শুভেন্দুকে ঘিরে ভিড় জমে যায়। ফুল, মালা এবং অভিনন্দনের ঢল নামে। জয়োৎসবের আবহে এলাকা জুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শুভেন্দু অধিকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মানুষের এই ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাব।’

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয় লাভ করে শুভেন্দু রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। তাঁর এই অভ্যর্থনা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের নির্বাচনেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। এবারে ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়ী হয়ে ফের একবার তৃণমূল নেত্রীকে বার্তা দিলেন তিনি। পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে পরাস্ত করেছেন। রাজ্যজুড়ে বিজেপির জয়ের অন্যতম মুখ হিসেবেও উঠে এসেছেন শুভেন্দু।

এই জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে নন্দীগ্রামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয় প্রসঙ্গে মমতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘২১-এই হেরেছিলেন। তৎকালীন যন্ত্রকে বিগড়ে দিয়ে তিনি ফিরে এসেছিলেন। তা নাহলে ২০২১-এ অনেক বেশি সিট পেত বিজেপি। চুরিটা সেই সময় থেকে ছিল পরিষ্কারভাবে। এবারে চুরি করতে পারেননি। আমি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি, মানুষ ওঁর সঙ্গে নেই। মানুষ শুভেন্দুর সঙ্গে চলে গেছে। এবার মানুষ নিজের মত প্রকাশ করেছে।’

মমতা ও তৃণমূল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শুভেন্দুকে তাড়ানোর ষজ্ঞটা যেদিন শুরু হয়েছে, সেদিন কাটিং শুরু হয়েছে। বামফ্রন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত পরিবর্তন এনেছিল নন্দীগ্রাম। কারণ, বুদ্ধদেববাবুর হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল প্রশাসন। তর্কের খাতিরে যে যা বুঝুক, আমি বুঝতাম বুদ্ধদেববাবু বেঁচে থাকলে আজ নিজে বলতেন। উনি তো ভদ্রলোক। অস্বীকার করতে পারবে না কেউ। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল ছিল। খারাপ ছিল না। রাজনৈতিক লড়াই আমরা করেছি। একেবারে নেক টু নেক। কিন্তু, কখনো কোনও খারাপ কাজ দেখিনি আমরা। কিন্তু, নন্দীগ্রামে যেদিন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে… সেদিন উনি বুঝেছিলেন যে আমি আর নেই। উনি আর থাকতে পারবেন না।’

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের উপর জোর দেওয়া হবে। কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছেন শুভেন্দু। সব মিলিয়ে, ঐতিহাসিক জয়ের পর নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে ঘিরে এই উচ্ছ্বাস রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement