জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে তেল কোম্পানিগুলিও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই মূল্যবৃদ্ধি থেকে একই পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী দিনে এই ঘটনা চলতেই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মােদি সরকারের এই রকম পরিকল্পনার বিষয়টিই সামনে এনেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।
রান্নার গ্যাসের ওপর থেকে ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মােদি সরকারের। এই পরিকল্পনার নীল নকশা অনেক দিন আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সদ্য সংসদে যে ২০২১-২২ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করেছেন সেখানে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার প্রাথমিক প্রস্তুতি দেখা গিয়েছে।
দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারে রান্নার গ্যাস পৌছে দিতে ২০১৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যােজনা চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের উপভােক্তার সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি স্পর্শ করতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধির পরিবর্তে আগামী আর্থিক বছরে (২০২১-২২) তা তিন ভাগের দু’ভাগ কমিয়ে ফেলা হয়েছে। আগামী আর্থিক বছরে এই খাতে মাত্র ১২৯৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে অর্থমন্ত্রক। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে এত কম টাকা বরাদ্দ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থমন্ত্রকের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘ভর্তুকি তুলে দেওয়ার দীর্ঘ মেয়াদি যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এটি তারই অঙ্গ। আমরা ধীরে ধীরে কেরােসিন ও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছি। আগামী আর্থিক বছর পর্যন্ত এটি চলবে। প্রতি বছর আমরা বিপুল পরিমাণে বকেয়া মিটিয়ে দিচ্ছি। স্বাভাবিকভাবে বকেয়ার পরিমাণ কমেছে। যে কারণে পেট্রোলিয়াম ভর্তুকি বাবদ কম অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যে হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে তার ফলে ভর্তুকির চাপ অনেক কমে গিয়েছে। আগামী বছরেও এই প্রক্রিয়া চলবে।




