• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 12 September, 2026

আজ থেকে শুরু BRICS সম্মেলন, দিল্লিতে মোদীর আতিথেয়তায় বিশ্বনেতারা

BRICS-এর সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের পাশাপাশি অংশ নেবেন অংশীদার দেশ ও আমন্ত্রিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধিরাও। চতুর্থবারের জন্য BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে ভারত

আজ থেকে শুরু BRICS সম্মেলন, দিল্লিতে মোদীর আতিথেয়তায় বিশ্বনেতারা

Image: SNS

আজ থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম BRICS সম্মেলন। দুই দিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যমত গড়ে তোলাই ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সংগঠনের সদস্য দেশগুলির ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত মণ্ডপমে বসছে এই সম্মেলন। BRICS-এর সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের পাশাপাশি অংশ নেবেন অংশীদার দেশ ও আমন্ত্রিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধিরাও। চতুর্থবারের জন্য BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ভারতের লক্ষ্য বাস্তব সহযোগিতা ও কার্যকর সিদ্ধান্তে যাতে পরিণত করা যায়।এ বছর BRICS-এর পথচলার দুই দশক পূর্ণ হচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বের বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে পুতিন, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন থেকে প্রতিরক্ষা-একাধিক বিষয়ে আলোচনা

ইরানের নজর জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে

সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি BRICS-এ ভারতের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান শক্তি এবং BRICS-এর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করা এবং নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সকলেই একমত। তবে BRICS-এর অভিন্ন মুদ্রা চালুর বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতার বার্তা মোদীর

শুক্রবার BRICS বিজনেস ফোরামে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। শক্তি থেকে প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার উপর ভারত গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে নিরাপদ সমুদ্রপথ, অবাধ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার BRICS-এর মূল ভাবনা হল—‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’। সম্মেলনে BRICS-এর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

দিল্লিতে অংশীদার দেশ ও আমন্ত্রিত রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

সম্মেলনের আগে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট তথা আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এভারিস্ত নাদাইশিমিয়ে, কিউবার বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া এবং থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলাও সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন।২০২৬ সালের ASEAN-এর চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মার্কোস। অন্যদিকে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছেন নাদাইশিমিয়ে।

আরও পড়ুন: ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, সমাজমাধ্যমে নজরদারি, হঠাৎ বিক্ষোভ নিয়ে সতর্কতা জারি

চতুর্থবার BRICS-এর সভাপতিত্বে ভারত

১ জানুয়ারি BRICS-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ভারত। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে তিনবার এই দায়িত্ব সামলেছে নয়াদিল্লি।সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

BRICS-এর অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম।ভারতের সভাপতিত্বের কর্মসূচির মূল তিনটি স্তম্ভ হল—রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি।

এখন নজর থাকবে দিল্লির সম্মেলনে বিশ্বনেতারা কতটা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেন এবং ভারতের সভাপতিত্বের এক বছরের বৈঠক ও আলোচনাকে কতটা কার্যকর সিদ্ধান্তে পরিণত করা সম্ভব হয়।

দেখুন: ব্রিকস দেশগুলির হাতে বিশ্বের ৪০ শতাংশ বেশি জিডিপি, জি৭-এর অবদান মাত্র ২৯শতাংশ: পুতিন