কলকাতা পুলিশে অনেক কর্মী আছেন যাঁরা নবীন। এই নবীন পুলিশ কর্মীরা গালে দাড়ি রাখতে চান। তার পিছনে আছে দুটি কারণ। এক, দাড়ি রাখলে একটু গম্ভীর ভাব আসবে। দুই, নিজেদের সৌন্দর্য বিকশিত হবে। এই কারণগুলিকে সামনে রেখে একঝাঁক পুলিশ কর্মী দাড়ি রাখা নিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশকর্মীদের দাড়ি রাখা যায় না। এটা নিয়মে আছে। সেই নিয়ম লঙ্ঘন হোক চায়নি লালবাজার। তাই পুলিশকর্মীদের আবেদন নাকচ হয়ে যায়। যদিও এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি পুলিশকর্মীদের বলেই সূত্রের খবর।
এই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় মনের কষ্টে রয়েছেন তাঁরা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশে কাজ করেও দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। কর্তব্যরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের একাধিক পদমর্যাদার কর্মী এবং হোমগার্ডরা আবেদন করেছিলেন। যা এবার খারিজ করে দিল লালবাজার। পুলিশ সূত্রের খবর, পুলিশবাহিনীর পোশাকের একটা রূপ আছে। তার সঙ্গে বিভাগীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রচলিত দাড়ি রাখায় বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যাঁরা ভেবেছিলেন আবেদনে সদর্থক সাড়া মিলবে তাঁরা এখন জোর ধাক্কা খেয়েছেন। দাড়ি রেখে যে একটা পুলিশ-বাহাদুরের চেহারা নেবেন ভেবেছিলেন তাতে জল ঢেলে দিয়েছে লালবাজার।
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর তারিখে জারি করা হয়েছে একটি মেমো। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক র্যাঙ্কের পুলিশকর্মী এবং হোমগার্ড স্বেচ্ছায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেখানে মোট ৪৭ জন আবেদনকারীর নাম, পদমর্যাদা এবং এখনকার পোস্টিংয়ের তালিকাও মেমোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কারা আবেদন করেছিলেন তাঁদের নাম সামনে চলে এসেছে। তাতে তাঁরা খানিকটা লজ্জাও পেয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
তাছাড়া ওই মেমোতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনগুলি দেখা এবং পড়ার পর সেটা খারিজ করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দাড়ি বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ আছে। সেটা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পুলিশবাহিনীর পোশাকে একটা রূপ বজায় রাখা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে কলকাতা পুলিশের নানা ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, ট্রাফিক পুলিশ-সহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা আছেন। প্রথম পাতায় ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পাতায় আরও ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকী সেই মেমো অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানদের আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে এবং নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)।




