• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 4 September, 2026

কলকাতায় বসে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগ, পুলিশের জালে ৩

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ৫টি মোবাইল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ, ১টি ট্যাব, ৬টি চেকবই এবং নগদ ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করেছে।

কলকাতায় বসে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগ, পুলিশের জালে ৩

Photo: Statesman

কসবার রাজডাঙার পর এবার বেনিয়াপুকুর। শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একের পর এক ভুয়ো কল সেন্টারের খোঁজ মিলছে। শুক্রবার ভোরে বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে হানা দেয় কলকাতা পুলিশের সাইবার থানার আধিকারিকেরা। সেখান থেকে ৩ জন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই কল সেন্টারে বসে অভিযুক্তরা নিজেদের পেপ্যাল (PayPal)-এর আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ফোন করতেন। এরপর প্রতারকরা রিমোট কম্পিউটার অ্যাক্সেস অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কম্পিউটারে প্রবেশ করত। সেখান থেকে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গোপনীয় নথি হাতিয়ে তারা নিত বলে অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বৈধ অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়া হত। পরে সেই টাকা অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অথবা বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোর রাতে বেনিয়াপুকুর লেনের সানি রক ভিলার ৫ তলার ৫বি নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও নথি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ৫টি মোবাইল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ, ১টি ট্যাব, ৬টি চেকবই এবং নগদ ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করেছে।

পুলিশ প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মহম্মদ আনাস (২৮), আয়ান হোসেন(২০) এবং সৈয়দ জায়েদ(১৯)। পুলিশের দাবি, ওই তিনজনই এই গোটা কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সাইবার পুলিশ স্টেশনে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জিডিই নম্বর ৭৭-এর ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬, ৬৬বি, ৬৬ডি ও ৮৪বি ধারার পাশাপাশি ৪৩ ধারায় এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২), ৩১৯(২), ৩১৮(৪), ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩), ৩৩৮ ও ৩৪০(২) ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেরামতির কাজ চলাকালীন ফের ধস ফরাক্কায়, শুক্রেও বাতিল উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন, দুর্ভোগে যাত্রীরা

পুলিশ তদন্তে নেমে বাজেয়াপ্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি পরীক্ষা করছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সেই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ঠিক কত টাকা হাতানো হয়েছে এবং সেই সব অর্থ কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সাইবার থানার ওসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।