বিশ্বকাপ জেতার আনন্দের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন স্পেনের মার্কোস ইয়োরেন্তে। বয়স মাত্র ৩১। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে স্পেনের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফুটবলার। সেই সাফল্যের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন ইয়োরেন্তে।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ইয়োরেন্তে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, বিশ্বকাপে তিনি খেলুন বা না খেলুন, স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক—এই সিদ্ধান্ত বদলাবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে তাঁর অবসরের কোনও সম্পর্ক নেই।
ইয়োরেন্তে লিখেছেন, ‘আমি জানি, এখনও আমি তরুণ। ভাল খেলতে থাকলে হয়তো আরও কয়েক বছর এই জার্সিতে খেলার সুযোগও পেতাম। অনেকেই হয়তো আমার সিদ্ধান্ত বুঝতে পারবেন না। সত্যি বলতে, বাইরে থেকে দেখলে আমিও হয়তো বুঝতাম না। কিন্তু এটা একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অনেক ভেবেচিন্তে নিয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা, সিদ্ধান্তটা হৃদয় থেকে এসেছে।’
২০২০-তে স্পেনের সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল ইয়োরেন্তের। তার পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০২১-এর ইউরো এবং ২০২২-এর বিশ্বকাপেও স্পেনের জাতীয় দলে ছিলেন। এ বার ২০২৬ বিশ্বকাপেও তাঁকে দলে রেখেছিলেন কোচ। স্পেন শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে ১-০-য় হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে। ফাইনালে অবশ্য ইয়োরেন্তে মাঠে নামেননি, ছিলেন পরিবর্ত খেলোয়াড়দের বেঞ্চে।
🌅 Vimos el amanecer junto a @marcosllorente el día de la final de la #CopaMundialFIFA
⭐️⭐️ Él ya sabía cositas.
🏆 El broche no pudo ser mejor. La guinda a una brillante trayectoria con la @SEFutbol #VamosEspaña pic.twitter.com/W5QmjM69b5
— Selección Española Masculina de Fútbol (@SEFutbol) September 3, 2026
তবে বিশ্বকাপের পুরো অভিজ্ঞতাটাই তাঁর কাছে হয়ে থাকবে স্পেশ্যাল। সতীর্থদের কথা বলতে গিয়ে ইয়োরেন্তে লিখেছেন, ‘আমি জীবনে যে সমস্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলি সবই খুব যত্ন করে মনে রাখব। তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে এই শেষ ৫২টা দিন। অসাধারণ একটা দল ছিল আমাদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে স্পেনকে শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। আর শেষ পর্যন্ত সেটাই আমরা করে দেখিয়েছি।’
ইয়োরেন্তের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই স্পেনের জাতীয় দলে একটি জায়গা খালি হল। বিশেষ করে ডান দিকের রক্ষণে তাঁকে একাধিক ভূমিকায় ব্যবহার করা যেত। বিশ্বকাপেও প্রয়োজন অনুযায়ী রাইট-ব্যাক এবং মাঝমাঠে খেলেছেন তিনি। ফলে তাঁর জায়গা পূরণ করা স্পেনের কোচের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে অবশ্য এখনই থামছেন না ইয়োরেন্তে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়েই খেলছেন তিনি। অর্থাৎ স্পেনের জার্সিতে শেষ বার দেখা গেল তাঁকে বিশ্বকাপের মঞ্চে। দেশের হয়ে তাঁর শেষ স্মৃতি—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া। তার পরেই ৩১ বছর বয়সে বলে দিলেন, ‘এ বার বিদায়।’
এক দিকে বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্মৃতি, অন্য দিকে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত—ইয়োরেন্তের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষটা তাই একই সঙ্গে মধুর এবং চমকপ্রদ।




