• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 4 September, 2026

মহানায়কের নামে ফিল্ম সেন্টার, ২৫ কোটি ব্যয়ে নিউটাউনে তৈরি হবে ফিল্ম হাব

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর নামাঙ্কিত একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে

মহানায়কের নামে ফিল্ম সেন্টার, ২৫ কোটি ব্যয়ে নিউটাউনে তৈরি হবে ফিল্ম হাব

Image: SNS

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ। তবে মহানায়কের এই উৎসব মাত্র চারদিনের মধ্যেই সামীবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর কৃতি তুলে ধরতে চাইছে বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari)। সেই কারণে নিউ টাউনে তোলা হবে অত্যাধুনিক ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ বা উত্তম কুমার ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হতে চলেছে এই প্রকল্প। সেখানে থাকবে সিনেমা হল, বিশাল অডিটোরিয়াম, ওপেন এয়ার থিয়েটার থেকে শুরু করে অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স এবং গেমিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির পরিকাঠামো।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে (Suvendu Adhikari) এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহানায়কের (Uttam Kumar) জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর নামাঙ্কিত একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) চার দিনের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। শোভাযাত্রা, কেক কাটা, পায়েসের আয়োজন এবং বাঙালির চেনা আড্ডার আবহে মহানায়ককে স্মরণ করেছে শহর। এই আবেগঘন আয়োজনের মধ্যেই উঠে এসেছে ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিকল্পনার কথা।

প্রস্তাবিত ফিল্ম সেন্টারটি তিনটি পৃথক অংশে তৈরি করা হবে। প্রথম অংশে থাকবে ৭০০ থেকে ৭৫০ আসনবিশিষ্ট দু’টি সিনেমা হল। পাশাপাশি থাকবে প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট এবং গাড়ি রাখার ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে মিলবে না সরকারি সাহায্য, মাদ্রাসাগুলিকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

দ্বিতীয় অংশটি মূলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মঞ্চনির্ভর কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবে এক হাজার আসনের একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং একটি ওপেন এয়ার থিয়েটার ফলে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য শিল্পচর্চারও সুযোগ থাকবে।

সবচেয়ে আধুনিক অংশটি হবে তৃতীয় পর্যায়ে। সেখানে অ্যানিমেশন, ভিজুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্স, গেমিং কমিকস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য থাকবে বিশেষ ল্যাবরেটরি ও স্টুডিও।

বর্তমানে চলচ্চিত্রে অ্যানিমেশন ও ভিজুয়াল এফেক্টসের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি এবং কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে পর্দায় বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। নিউ টাউনের এই কেন্দ্র সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর ফলে বাংলার তরুণ প্রজন্ম চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে মিডিয়া ও বিনোদন শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই এগিয়েছে। মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ডিটেইলড প্রজেস্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। বর্ষা শেষ হওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: টুলু মণ্ডলের সিউড়ির আরও একটি বাড়িতে তল্লাশি পুলিশের

প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হবে। হিডকো এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্যদের পরামর্শও নেওয়া হতে পারে।

সরকারের লক্ষ্য, মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে শুধুমাত্র একটি সাময়িক উৎসব হিসেবে না দেখে তাঁর নামকে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করা। চার দিনের অনুষ্ঠান শেষ হলেও উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) স্মৃতি ও অবদানকে দীর্ঘদিন ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই স্থায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা।

দেখুন: