একের পর এক ম্যাচ। ঠাসা সূচি। তার মধ্যে চোট-আঘাত এবং বিদেশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের স্বার্থে সূচিতে বড়সড় বদল আনার পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বড় সিরিজ়ের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় এবং প্রস্তুতি ম্যাচ রাখার পরিকল্পনাও করছে বিসিসিআই। এতদিনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড উপলব্ধি করল যে, ক্রিকেটারদের বিশ্রাম প্রয়োজন এবং বিশ্রামের অভাবের জন্যই এত চোট-আঘাত হয়ে চলেছে।
বৃহস্পতিবার বোর্ডের সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া। তাঁর দাবি, ক্রিকেটের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের কোনও অভাব নেই। মূল সমস্যা হল বছরের ঠাসা ক্রিকেট সূচি। তাই পরবর্তী ‘ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম’ বা এফটিপি তৈরির সময় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
সইকিয়া বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের সমস্ত বিভাগের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় রয়েছে। মহিলা দলের কমিটি, তাদের টেকনিকাল স্টাফ, কোচেরা, সিওই, ভারতীয় পুরুষ দলের কোচিং স্টাফ এবং প্রধান কোচ—সকলের মধ্যেই সমন্বয় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। সব কিছুই সঠিক পথে এগোচ্ছে’।
তবে যে জায়গাটি নিয়ে চিন্তা রয়েছে, তা হল ম্যাচের সংখ্যা। সইকিয়া বলেন, ‘আমাদের একমাত্র সমস্যা হল বছরে অনেক বেশি ম্যাচ খেলা হয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই পরবর্তী এফটিপিতে আমরা কিছু বিষয় বদলাব, কিছু ব্যবস্থা নেব’।
কী সেই ব্যবস্থা? বিদেশের কঠিন সফরের আগে ক্রিকেটারদের হাতে যাচে আরও বেশি সময় থাকে, তার ব্যবস্থা। সইকিয়া জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন ফোরামে এফটিপি নিয়ে যে কর্তারা আলোচনা করবেন, তাঁদের কাছে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাঁর কথায়, ‘আমরা আমাদের এফটিপি-র দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে পরবর্তী এফটিপি এমন ভাবে তৈরি করা হয় যে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে কোনও বড় সিরিজ়ের আগে ক্রিকেটারদের যথাযথ বিশ্রাম দেওয়া যায়। পাশাপাশি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থাও থাকে’।
এ দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টেস্ট ও এক দিনের দলের অধিনায়ক শুভমান গিল, টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর এবং সিওই-র ক্রিকেট ডিরেক্টর ভিভিএস লক্ষ্মণ। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী এক বছরের পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে।
২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও যে এখন থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সইকিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী এক বছরে আমরা কী করতে চলেছি, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। ২০২৭ বিশ্বকাপে যাতে আমরা ভাল পারফরম্যান্স করতে পারি, তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হবে’।
অর্থাৎ, শুধু দল নির্বাচন বা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নয়— ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম, বিদেশের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনকেও সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে বিসিসিআই।




