১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ( BRICS Summit) আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে নয়াদিল্লিকে। প্রায় ১৬ জন রাষ্ট্রপ্রধান এই সম্মেলনে ( BRICS Summit) যোগ দেবেন। তার আগে দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারেরও বেশি কর্মী এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২০০ কোম্পানিকে মোতায়েন করা হয়েছে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত ( BRICS Summit) হতে চলেছে ভারত মণ্ডপমে।
সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে কার্যকলাপ এবং আচমকা বিক্ষোভের সম্ভাবনার উপরও নজর রাখছে পুলিশ। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখেও তৈরি রাখা হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।
দিল্লি পুলিশ ১৫ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। যাতায়াতের রুটে নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্ধারিত রুটগুলিকে নিরাপত্তার নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোনও ধরনের নাশকতা রুখতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দিল্লি পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ নজর রাখছে।ভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য ট্রাফিক সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
শুধুমাত্র সম্মেলনের স্থান ( BRICS Summit) বা বিদেশি প্রতিনিধিদের কনভয়ের রুট নিরাপত্তার চাদরে মোড়া হয়নি, আচমকা বিক্ষোভ, সমাজমাধ্যমে কোনও উসকানিমূলক কার্যকলাপ কিংবা অনুরূপ ঘটনার সম্ভাবনার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহড়াও চালানো হয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি আয়োজক দেশ হিসেবে বিদেশি অতিথিদের যাতে কোনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা ভারতের দায়িত্ব। দিল্লি বা তার আশপাশে এমন কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ সচিন শর্মা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিভিন্ন জোনে পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্মেলনের আগে একাধিক মহড়া দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নয়াদিল্লির বিভিন্ন সেক্টর জোনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তা মহড়া চালানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চলছে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। সম্ভাব্য কোনও হুমকি দ্রুত শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামও বসানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও অসুবিধার মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিদেশি প্রতিনিধিরা যদি আচমকা দিল্লি বা পার্শ্ববর্তী রাজ্যের কোনও ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক স্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার জন্যও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের আকস্মিক সফর হলে যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যায়, সে জন্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গেও সমন্বয় বৈঠক হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমনাথ যাত্রায় ১১০০ পুণ্যার্থীর সঙ্গে সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিম
দু’দিনের এই সম্মেলনে ব্রিকসের ( BRICS Summit) সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির রাষ্ট্রনেতা এবং শীর্ষ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও অংশ নেবেন।
আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC), সেলাক (CELAC) এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ডিরেক্টর জেনারেল ন্গোজি ওকনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে কৌশলগত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, সীমান্তপারের লেনদেনের ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মোকাবিলার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের ( BRICS Summit)সভাপতিত্ব করছে ভারত। এবারের সম্মেলনের ( BRICS Summit) মূল ভাবনা— ‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’, অর্থাৎ স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
দেখুন: এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ – মহাকাশ নিয়ে মোদী




