দহন-দগ্ধ ভোট

ভোটের দিন এগিয়ে আসছে। গরম বাড়ছে। বাড়ছে ভােটের উত্তাপও। এপ্রিল-মে মাসের তীব্র দহনে দগ্ধ ভােট। এখন এটা প্রায় রেওয়াজে এসে দাঁড়িয়েছে। ভােটাররা গলদঘর্ম হয়ে ভােটের লাইনে দাঁড়াবেন– সূর্যের প্রখর তাপ তাদের মাথার ওপর– দীর্ঘক্ষণ অত্যন্ত অস্বস্তিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অবশেষে সেই ক্ষণ আসা যখন তাঁরা আঙুল ছোঁয়াবেন, তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের প্রতীকচিহ্নে।

Written by SNS April 5, 2019 10:48 am

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

ভোটের দিন এগিয়ে আসছে। গরম বাড়ছে। বাড়ছে ভােটের উত্তাপও। এপ্রিল-মে মাসের তীব্র দহনে দগ্ধ ভােট। এখন এটা প্রায় রেওয়াজে এসে দাঁড়িয়েছে। ভােটাররা গলদঘর্ম হয়ে ভােটের লাইনে দাঁড়াবেন– সূর্যের প্রখর তাপ তাদের মাথার ওপর– দীর্ঘক্ষণ অত্যন্ত অস্বস্তিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অবশেষে সেই ক্ষণ আসা যখন তাঁরা আঙুল ছোঁয়াবেন, তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের প্রতীকচিহ্নে।

দিল্লির মৌসম ভবন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, এবার দহনের তীব্রতা অন্যান্য বছরের তুলনায় বাড়বে। আর মে মাসটাই এমন একটি মাস যখন তাপ বাড়ে, বাড়ে আদ্রর্তা। দক্ষিণ হাওয়ার কোনও দিন দেখা মেলে বিকেলে– কোনও দিন মেলেও না। সুতরাং এই মাসটা যেন কাটতেই চায় না। তারপর জুন, বর্যা নামার মাস। তাও দেরি করে আসে, নির্দিষ্ট সময়ে আসে না। সুতরাং বৃষ্টি নামবে, তার প্রত্যাশায় দিন গােনা।

যদি বর্ষা নির্দিষ্ট সময়ে আসে, তখন জুন মাসের প্রথমদিক। কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে যাবে। যদি বিজেপি এবং তার সহযােগী দলগুলি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়, তাহলে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন দামােদরদাস নরেন্দ্র মােদি। আর যদি বিজেপিবিরােধী দলগুলির প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হন, তাহলে তাঁরা মিলেজুলি সরকার গঠন করবে। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা অবশ্য এখন বলা যাচ্ছে না– কারণ ফলাফলের নিরিখে দাবিদার ঠিক হবে! কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি বলেছেন, ভােটের পর বিরােধী জোট পাকাপাকিভাবে তৈরি হবে। হলে ভালাে।

ভােটপর্ব শুরুর দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার আগে বিরােধীরা দফায় দফায় একসঙ্গে আলােচনায় মিললেন। দিল্লি, কলকাতা এবং হায়দরাবাদে– সর্বশেষে। কিন্তু সব অ-বিজেপি দলগুলি ঠিক এক ছাতার তলে এসে একটা ঐক্যবদ্ধ জোট গঠন করা হল না। তাই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর যে জোট গঠনের কথা রাহুল গান্ধি বলেছেন, তা কতটা কার্যকরী হবে বলা কঠিন। কারণ তখন তো জয়-পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ নিয়ে সব দল ব্যস্ত হয়ে উঠবে।

গ্রীষ্মের দাবদাহ নিয়ে শুরু হয়েছিল নিবন্ধটা– তাতেই আবার ফিরে আসি। তাপপ্রবাহ এখন প্রতিদিনই বাড়বে– বাড়ছে প্রচারের উত্তাপও। কিন্তু যে জিনিসটা এরই মধ্যে বিরাট সংকটের সৃষ্টি করেছে, তা হল গ্রামগঞ্জে, এমনকি শহরাঞ্চলেও পানীয় জালের হাহাকার। আর প্রত্যন্ত গ্রামে আবার বিদ্যৎ সমস্যা– বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু যে আলো জ্বলে, তাতে ঘর-সংসারের কাজ চলে না। কারণ ভােল্টেজ সমস্যা।

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের খবর জেলাগুলির গ্রামাঞ্চলে থেকে প্রায় প্রতিদিনই পানীয় জলের সংকটের খবর আসছে। হ্যান্ড টিউবওয়েলগুলি যা এখনও গ্রামাঞ্চলে, পানীয় জলের প্রধান সাের্স, একটার পর একটা অকেজো হয়ে পড়ছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে বহু বছর, এখনও সারাদেশে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা পাকাপাকিভাবে হল না। অথচ মানুষের জীবনধারণের জন্য পানীয় জল না হলে চলবে না। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা প্রতিবারই বিরাট করে দেখা দেয়। কবে রাজ্যের সব মানুষের জন্য পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা যাঁরা গ্রাম-গঞ্জে ভােট চাইতে যাচ্ছেন, তাঁরা স্বচক্ষে এই পানীয় জলের সমস্যাটা দেখছেন। ভােটে জয়ী হলে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা হবে, এই প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন– কিন্তু ভােটে জেতার পরে সে কথা যে কারওর মনে থাকে না, এটা তাঁদের কী করে বােঝানাে যাবে?

রাজ্যে বিদ্যুৎ অঢেল। তার জন্য গর্ব আছে । কিন্তু গ্রামগঞ্জে ভােট চাইতে গিয়ে প্রার্থীরা দেখতে পাচ্ছেন, বিদ্যুৎ থাকলেও মনে হচ্ছে গ্রামগুলি অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। বিদ্যুতের জোগান আছে, কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির জন্য প্রচুর মৌজায় বিদ্যুৎ সংযােগ স্থাপিত হলেও যে আলাে জ্বলে, তাতে গহস্থালীর কাজ চলে না। ভােট আসে, ভােট যায়। প্রার্থীরা জয়যুক্ত হন, কিন্তু এই দুই সমস্যার সমাধান হয় না। সমাধানের কথা শুনতে শুনতে তাঁদের কান ঝালাপালা– কিন্তু সমাধানটা চোখে পড়ে না।

তবুও ভােট আসবে। মানুষের সমস্যা থাকলেও তাঁরা তাঁদের ভােটাধিকার প্রয়ােগ করতে ভােটকেন্দ্রে যাবেন। তার নেতাদের গালভরা প্রতিশ্রুতির কথাও শুনবেন। তারপর সব শুনশান। জয়ীদেরও দেখা নেই, সমস্যারও সমাধান নেই। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।