• facebook
  • twitter
Thursday, 5 February, 2026

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদীর পদত্যাগ নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, এ রাজ্যে ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থাকে তবে সেই তালিকার ভোটার দিয়ে কীভাবে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হন

বৃহস্পতিবার পেশ হয়েছে তৃতীয় মমতা সরকারের শেষতম বাজেট। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অধিবেশনে সূচনা ভাষণ দেন। সেই ভাষণ ছিল অতি সংক্ষিপ্ত, মাত্র সাড়ে চার মিনিট। আর তা নিয়েই এদিন শুরু হয় বিরোধী-শাসক তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন রাজ্যের মিথ্যা ভাষণ পড়তে চাননি রাজ্যপাল।

শুভেন্দুর দাবি উড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিন বলেন, তাঁর গলায় সমস্যা ছিল, তাই তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি ভাষণটি সভার টেবিলে ‘লে’ করেছেন। এটা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা বলার মতো কিছু না-পেয়ে অকারণ সমালোচনা করছে। এরপর বিরোধীদের তোলা রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হন তিনি।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ রাজ্যে ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থাকে তবে সেই তালিকার ভোটার দিয়ে কীভাবে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হন। নাগরিকত্ব, সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা – এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। বিজেপি বিধায়কদের হট্টগোলের মধ্যেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী কথাটা আপনাদের মাথায় ঢুকে গেছে। একটাও অনুপ্রবেশকারী খুঁজে পেয়েছেন বাংলায়?  আমি চ্যালেঞ্জ করছি ।‘

Advertisement

২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ পরপর তিনটি লোকসভা ভোট, বর্তমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বিরোধীদের দাবি মতো, সেই ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থাকে, তাহলে সেই ভোটারের ভিত্তিতে জেতা সরকারের বৈধতা কি করে থাকতে পারে। এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার প্রধানমন্ত্রী তাহলে কেন পদত্যাগ করছেন না ? তার মানে তিনিও অনুপ্রবেশকারীর ভোটেই জিতেছেন। আপনার গভর্নমেন্ট তৈরি হয়েছে, আপনি এটা বলতে চান? প্লিজ কন্ট্রোল ইওরসেলফ ফার্স্ট। চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম।‘

মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও আসাম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে বলে এদিন দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বলতে গিয়ে এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সিআরপিএফ, সিআইএসএফ থেকে শুরু করে বিএসএফ – সবাইকে জমি দিয়েছে। কিন্তু বিএসএফ এখন তাদের এক্তিয়ার ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করে গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করছে ।

মমতা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘বর্ডারে নিয়ম ছিল ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিএসএফ ঢুকতে পারে, আর এখন ৫০ কিলোমিটার ঢুকে জনসাধারণের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। আমি এই অত্যাচার মানব না। যা জমি দিয়েছি আগে কাজ কমপ্লিট করুন, বাদবাকি জমি আমরা দিয়ে দেব। তার আগে আপনাদের রুল চেঞ্জ করুন।‘

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অর্ধেক জমি কেন্দ্র দখল করে রেখেছে। ১০ বছর ধরে সীমান্ত এলাকার কাস্টমস ও এভিয়েশন ডেটা রাজ্যের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে এদিন ফের সরব হন তিনি। জিএসটি এবং আটকে থাকা ফান্ডের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, ১৫ বছর অপেক্ষা করার পরেও কেন্দ্র এক পয়সাও দেয়নি। বাধ্য হয়ে রাজ্য সরকার নিজের তহবিল থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং কাজ শুরু করেছে।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘মাছের তেলে মাছ ভাজা হচ্ছে। একটাই ট্যাক্স – জিএসটি। একশো  দিনের কাজ, গ্রামীণ সড়ক যোজনা এবং আবাসের টাকা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে এদিন তিনি তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিজেপি বিধায়কদের ।বক্তৃতার শেষে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর মন্তব্য, ‘আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো থাকবেন ।

বাংলা হিরো ছিল, বাংলা হিরো থাকবে ।‘ তিনি আরও বলেন, ‘চলবে না হামলা, এটার নাম বাংলা। চলবে না জুমলা, এটার নাম বাংলা।‘ পাশাপাশি আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো এবং ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমরা কোর্টেও জিতি, আমরা ভোটেও জিতি।‘ মমতা বলেন, ‘আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো থাকবেন। বাংলা হিরো ছিল, হিরো থাকবে।‘

 

Advertisement