কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই পুলিশের জালে ধরা পড়ল বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। বুধবার পুরুলিয়া থেকে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ দেবরাজকে গ্রেপ্তার করল। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজকে খুঁজছিল পুলিশ। কারণ বিধাননগরে দেবরাজকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। এই গ্রেপ্তারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়ে দেবরাজ এবং অদিতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাতে শিশুসন্তানের জন্য অদিতিকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সি রাজ্য-রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত নাম। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। যুব তৃণমূল কর্মী হয়েই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু। পরে কংগ্রেসেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিধাননগর পুরসভা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে জিতেছিলেন। পরে আবার ফিরে আসেন তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন দেবরাজই। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন তিনি।
অন্যদিকে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তি বানিয়ে ছিলেন দেবরাজ বলে অভিযোগ। নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনও করেছিলেন। তা নিয়ে মামলা হলে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় দেবরাজের গ্রেপ্তারে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না। তাঁর স্ত্রী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও জনপ্রিয় গায়িকা অদিতি মুন্সীর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে অদিতি এবং দেবরাজ অন্তত ১০০ কোটি টাকা সম্পত্তি বেনামে আত্মীয়স্বজন, পরিচিতদের মধ্যে হস্তান্তরিত করেছিলেন বলে অভিযোগ। নির্বাচনী হলফনামায় তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সির সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো হয় বলেও অভিযোগ সামনে আসে। আর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখল-সহ নানা অভিযোগ সামনে আসে দেবরাজের বিরুদ্ধে।
তাছাড়া মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর পক্ষ থেকেও আদালতে একগুচ্ছ মারাত্মক তথ্য পেশ করা হয়। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অদিতি-দেবরাজের হয়ে সওয়াল করেন। একজনের জামিন মঞ্জুর হয়, আর একজনের তা মেলে না। এবার গ্রেপ্তার হলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। চাকরি দুর্নীতি থেকে শুরু করে তোলাবাজি, মামলায় নাম জড়িয়ে গত কদিন ধরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দেবরাজ। গ্রেপ্তারি এড়াতেই কি পুরুলিয়ায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন? উঠছে প্রশ্ন। যদিও শেষরক্ষা হলো না। কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা রহস্যজনকভাবে অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল দেবরাজের বিরুদ্ধে।




