• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 16 August, 2026

‘আশিস দাকে অবিরাম চাপের মুখে ফেলা হয়েছে’, সহকর্মীর প্রয়াণে বার্তা মমতার

এই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী করেন, আশিসবাবুকে নিয়ে বিজেপির অপপ্রচারকে

‘আশিস দাকে অবিরাম চাপের মুখে ফেলা হয়েছে’, সহকর্মীর প্রয়াণে বার্তা মমতার

Mamata Banerjee Photo-ANI

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রামপুরহাটে পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ পোস্টে করে শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক চাপ এবং অপমানের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সতীর্থ। নিজে যখন প্রশাসনিক ক্ষমতায় ছিলেন তখন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর আকস্মিক প্রয়াণকে ‘রাজনীতির বিষের বলি’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এমনকী জনসেবামূলক কাজ করার পরেও বারবার অপবাদ দেওয়া হয়েছে। জীবনের শেষ কদিন হয়রানি এবং মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিকে রবিবার সকালে রামপুরহাটে নিজের বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওখান থেকে একটি একপাতার ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা তাঁর চরম সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে দায়ী করেননি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর দলবদল এবং প্রয়াণকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সংবাদ আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে তুলেছে। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি শিক্ষকতা করেছেন। বরাবর মাটির মানুষ বলে রামপুর ও গোটা বীরভূমে পরিচিত ছিলেন। পাঁচবারের বিধায়ক, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে রামপুরহাটের উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য নানা কাজ করেছেন। এত কাজের পরও তাঁকে বারবার হেনস্তা, অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক, শেষ জীবনে তাঁর উপর মারাত্মক মানসিক চাপ চলছিল। রাজনীতির বিষ যে কীভাবে ধীরে ধীরে একজন মানুষকে শেষ করে দিল সেটা বোঝা যাচ্ছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে। তাঁর পরিবার, অগণিত ছাত্রছাত্রী ও অনুরাগীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল।’

 

অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলিতে তাঁকে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী করেন, আশিসবাবুকে নিয়ে বিজেপির অপপ্রচারকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় উঠে এসেছে, ‘মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবিরাম চাপের মুখে ফেলা হয়েছে। মানসিক চাপের সম্নুখীন হয়েছিলেন। রাজনৈতিক বৈরিতার মূল্য দিতে হলো প্রবীণ রাজনীতিককে। আশিস দাকে অবিরাম চাপের মুখে ফেলা হয়েছে।’

তাছাড়া আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নানা রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী উপস্থিত হয়েছেন রামপুরহাটে। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অসিত মালের ফোন থেকে প্রয়াত আশিসবাবুর স্ত্রী, দিদি এবং ৮৪ বছরের দুই প্রবীণ দাদার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।