• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

পুজোর আগে মিলল না টাকা, আদালতের দ্বারস্থ মমতা তৃণমূল

ফলে কমিশনের ওই নির্দেশের পরও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি হাইকোর্ট। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলীয় তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় খরচ করার অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পুজোর আগে মিলল না টাকা, আদালতের দ্বারস্থ মমতা তৃণমূল

Calcutta High Court Image: SNS

পুজোর মুখে দলীয় তহবিল থেকে টাকা ছাড়ানো নিয়ে সমস্যায় মমতা তৃণমূল। কর্মীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া-সহ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আদালত-নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কাছে টাকা চেয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট শিবির।

মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও তা মঞ্জুর করেনি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুজোর ছুটির পরে আদালত খুললে মামলাটির শুনানি হবে। কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের কমিটি পুজোর আগে প্রয়োজনীয় কোনও টাকা ছাড়ছে না। ফলে কর্মীদের বেতন এবং বাড়ি ভাড়া-সহ একাধিক জরুরি খরচ আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিল ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা তৃণমূল।

মামলায় মমতা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং কর্মীদের বেতন মেটানোর জন্য তহবিল থেকে অর্থ ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। সেই টাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত শুনানিরও আবেদন করা হয়। তবে সেই আর্জি খারিজ করে পুজোর ছুটির পরে মামলাটি শুনবে বলে জানিয়েছে আদালত।

মামলাকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। মমতা তৃণমূলের দাবি, স্পেশ্যাল অফিসারের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক কি শুধুমাত্র উপনির্বাচনের জন্য ‘ফ্রিজ়’ করা হয়েছে?  নাকি এই নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য? যদি নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদি হয়, তা স্পষ্ট করে জানানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে পুলিশ। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যায় তৃণমূল। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার জন্য বিশেষ অফিসার নিয়োগ করেন।

গত ৯ জুলাই আদালত জানিয়েছিল, আপাতত ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির উপর মমতা তৃণমূলের অধিকার থাকবে তবে দেওয়া হযেছিল বেশকিছু শর্ত। ইচ্ছেমতো বা লাগামছাড়া ভাবে টাকা খরচ করা যাবে না। আদালত-নিযুক্ত অফিসারের মাধ্যমে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং কর্মীদের বেতন মেটানোর মতো প্রয়োজনীয় খরচ করা যাবে। এই ব্যবস্থা আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে আদালত জানিয়েছিল।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলা গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্য।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের বক্তব্য ছিল, মামলাটি ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামে করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের ফলে আপাতত ওই নামে কোনও রাজনৈতিক দল নেই। দলের নাম এবং প্রতীক, দুটিই ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, নির্বাচন কমিশন এখনও দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। উপনির্বাচনের জন্যই কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে।

ফলে কমিশনের ওই নির্দেশের পরও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি হাইকোর্ট। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলীয় তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় খরচ করার অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলকাতার নামী হোটেলে একযোগে হানা পুলিশ-এসটিএফের, বিরাট মাদক চক্রের পর্দাফাঁস

পুজোর আগে সেই তহবিল থেকে টাকা ছাড়ানোর জন্য ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেও আপাতত স্বস্তি পেল না কালীঘাট শিবির। দ্রুত শুনানির আবেদনও খারিজ হওয়ায় এখন পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় মমতা তৃণমূল।