পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানা এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্য তথা আইনজীবী শামিম আহমেদের উপর হামলা হয়। এই হামলার ঘটনা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বিরোধিতায় সিপিএমকে কাছে টানার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির চিঠি পেয়ে পাল্টা চিঠি এবং ফোনে কথাও বলেছিলেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করে নয়াদিল্লি থেকে ফেরার পর এবার আক্রান্ত বামপন্থী আইনজীবী শামিম আহমেদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে দায়ী করলেন তৃণমূলনেত্রী।
এদিকে শনিবার রাতে শালবনির কাছে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য শামিম আহমেদ-সহ বামপন্থী আইনজীবীদের গাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। রবিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘রাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছে।’ প্রশাসনের কাছে তাঁর বার্তা, ‘রাজনীতি ভুলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘আক্রান্ত আইনজীবী শামিম আহমেদকে মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের পর মূল অভিযোগপত্র বদলে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির জরুরি হস্তক্ষেপেই তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। শালবনির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট এবং বারুইপুর আদালতেও আইনজীবীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।’
The brutal assault on Advocate Samim Ahammed, newly elected Member of the Bar Council of West Bengal, near Salboni PS is deeply disturbing!
I am shocked to learn that he was even pressured to alter his complaint. Following the intervention of the Hon’ble Chief Justice of the…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 4, 2026
অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে সর্বস্তরে নিন্দা শুরু হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপিই এই কাজ করেছে। রবিবার নিজের সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শামিম আহমেদ এবং আক্রান্ত বামপন্থী আইনজীবীদের পাশে দাঁড়ান। তাই অনেকে রসিকতা করে বলছেন, ‘যদি বন্ধু হও যদি বাড়াও হাত….।’ এটা একটি বিখ্যাত আধুনিক বাংলা গানের লাইন। যদিও এই হামলার মুখে নতিস্বীকার না করে এটাকে ‘সংবিধান বাঁচানো বনাম সংবিধান ধ্বংস করার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন আক্রান্ত আইনজীবী শামিম আহমেদ। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনও অবস্থাতেই ভীতি প্রদর্শন কিংবা জঙ্গলরাজের সংস্কৃতি মেনে নেবে না। রাজনৈতিক হিংসার ঊর্ধ্বে উঠে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।’
তাছাড়া দলীয় মতাদর্শের উর্দ্ধে উঠে সমস্ত আইনজীবীর পেশাগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দোষী বিজেপি ক্যাডারদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাই নিজের পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘অ্যাডভোকেট শামিম আহমেদ, যিনি সবে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর উপর হামলার তীব্র নিন্দা করি। শুনলাম, তাঁকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতেও চাপ দেওয়া হয়েছে। শেষে প্রধান বিচারপতির সাহায্য নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। এটার আগে ব্যাঙ্কশাল আদালত ও বারুইপুরে আইনজীবীদের উপর হামলাও একইরকমভাবে নিন্দনীয়। পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে। এই সংস্কৃতি কেউ মেনে নেবে না। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক পেশার মানুষ যাতে ঠিকমতো নিজেদের কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার। বিজেপির গুন্ডাদের এই অত্যাচার আটকাতে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাচ্ছি।’




