• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 6 August, 2026

৩৫ দিনেই ১৫০ পাতার চার্জশিট! তোলাবাজি-সিন্ডিকেট মামলায় দেবরাজের দ্রুত বিচারের পথে রাজ্য

গ্রেফতারের মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যেই তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনার অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর

৩৫ দিনেই ১৫০ পাতার চার্জশিট! তোলাবাজি-সিন্ডিকেট মামলায় দেবরাজের দ্রুত বিচারের পথে রাজ্য

PIC- SNS

গ্রেফতারের মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যেই তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনার অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫০ পাতার চার্জশিট পেশ করল রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে জমা পড়া এই চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ১১১ নম্বর ধারা-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে মোট ১১ জন সাক্ষীর বয়ান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

রাজ্যের দাবি, তদন্তে দেবরাজের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থ আদায়, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সরকারপক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে। তাই আর বিলম্ব না করে মামলার বিচারপর্ব শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার ইঙ্গিত, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও দাখিল করা হতে পারে।

 

এই মামলার সূত্র ধরেই সামনে আসে বিপুল সম্পত্তি ও আয়ের অসঙ্গতির অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করেছিলেন। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন, আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি এবং অর্থপাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

গ্রেফতার এড়াতে দেবরাজ ও অদিতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও, শিশুসন্তানের স্বার্থে অদিতি মুন্সি অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি আত্মগোপন করেন। শেষ পর্যন্ত গত ১ জুলাই বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকেই তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ হয়েছে। ফলে দ্রুত বিচার শুরুর পথে এই বহুচর্চিত মামলায় আইনি চাপ আরও বাড়ল।