রাত সাড়ে ১২টায় বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেল। থানায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা রাখা হল। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী শুভঙ্কর মাইতি। তাঁর দায়ের করা পুলিশের অতিসক্রিয়তার মামলায় আপাতত তদন্তের পথ খোলা রেখে শুনানি মুলতুবি রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর হয়ে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট রেবেকা এম জন। তাঁর দাবি, ২০-২১ জুলাইয়ের মধ্যরাতে প্রায় ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ শুভঙ্করকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁকে থানায় রাখা হয় বলে অভিযোগ।
আবেদনকারীর আরও অভিযোগ, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথিতে সই নেওয়া হয়েছিল। এমনকী তারিখবিহীন গ্রেপ্তার মেমো এবং ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করানো হয় বলে আদালতে দাবি করা হয়। যদিও পুলিশের পক্ষে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা ঠেকাতেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুভঙ্করকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে তাঁর পরিচিত শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
পুলিশের এই যুক্তির বিরোধিতা করে রেবেকা এম জনের প্রশ্ন, ‘কাউকে চেনা কি অপরাধ?’ তাঁর বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় থাকলেই কাউকে আটক করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে না। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলেও গ্রেপ্তার না করে বন্ডে মুচলেকা নেওয়ার পথ খোলা ছিল বলেও সওয়াল করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সম্পর্ক শেষ, বিরোধেরও ইতি, পারস্পরিক সমঝোতার পর ৪৯৮এ মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে
মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে পুলিশের অতিসক্রিয়াতার মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশের তরফে দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আবেদনকারীর আইনজীবী। তবে তদন্ত এখনও চলছে বলে এই পর্যায়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেনি কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলাকারীকে জবাব দেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।




