দাম্পত্যের সম্পর্ক যখন ভেঙে গিয়েছে, তখন পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা ফৌজদারি মামলাও কি অনন্তকাল ধরে চলবে? পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পর এমনই এক মামলায় মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় মামলা করেছিলেন স্ত্রী। তদন্ত শেষে চার্জশিটও জমা পড়েছিল। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মিটে যায়। পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদও সম্পন্ন হয় হিন্দু বিবাহ আইনের ১৩-বি ধারায়।
সমঝোতার শর্তে ছিল ভরণপোষণ, স্থায়ী খোরপোষ, পণ ও স্ত্রীধনের দাবি-দাওয়ার নিষ্পত্তি। এমনকী বিবাহবিচ্ছেদের পর চলমান ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও পারিবারিক আদালতের সামনে সম্মতি দিয়েছিলেন স্ত্রী।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ৪৯৮এ ধারা আইনত অ-আপসযোগ্য হলেও, প্রকৃতপক্ষে দাম্পত্য বিরোধের অবসান ঘটলে এবং পক্ষগুলি আন্তরিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছলে হাইকোর্ট তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মামলা খারিজ করতে পারে।
বিচারপতি উদয় কুমার আরও স্পষ্ট করে জানান, একটি সমঝোতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সুবিধা নেওয়ার পর সেই সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পালনে অস্বীকৃতি জানানো সমীচীন নয়।
যেহেতু বৈবাহিক সম্পর্কের পরিসমাপ্তি ঘটেছে, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধও নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মামলা চালিয়ে যাওয়ার বাস্তব কোনও উদ্দেশ্য অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে ফৌজদারি বিচার চালিয়ে যাওয়াকে আইনের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করেছে আদালত।
আরও পড়ুন: বাকি পাঁচ মামলায় আপাতত স্বস্তি মিলনের, কোনও পদক্ষেপ করবে না রাজ্য
ফলে ৪৯৮এ ধারার মামলা, চার্জশিট এবং তার ভিত্তিতে শুরু হওয়া সমস্ত পরবর্তী কার্যক্রম খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের বার্তা স্পষ্ট, বিবাহ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বিরোধের শেষ হয় না, কিন্তু আন্তরিক সমঝোতায় যখন পুরনো বিবাদ মিটে যায়, তখন আইনও কখনও কখনও শাস্তির চেয়ে শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির পথকে গুরুত্ব দিতে পারে। এই রায়ের পরিপেক্ষিতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে আদি অনন্তকাল ধরে চলতে থাকা এই ধরনের মামলা সঠিক পথ দেখাবে এমনটাই মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।




