জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছিল মাত্র পাঁচ ওভারের। কিন্তু সেই ম্যাচ খেলতেই মাঠে পৌঁছতে ভারতীয় দলের লেগে গেল প্রায় তিন ঘণ্টা! ম্যাচ শেষে এমনই চমকপ্রদ তথ্য দিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। বৃষ্টির কারণে ওভার কমে যাওয়া ম্যাচে জাপানকে মাত্র ২ রানে হারিয়েছে ভারত। তবে ম্যাচের ফলের থেকেও এ দিন আলোচনায় উঠে এল এশিয়ান গেমসের পরিবহণ ব্যবস্থা।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল ভারত-জাপান এই বিশেষ টি-টোয়েন্টি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে আসে পাঁচ ওভারে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত করে ৩২/৪। জবাবে জাপান থামে ৩০/৩-এ। শেষ ওভারে ৮ রান দরকার ছিল জাপানের। কিন্তু অক্ষর পটেল দুর্দান্ত ভাবে সেই রান আটকে দিয়ে ভারতকে ২ রানের জয় এনে দেন।
ম্যাচের পর শ্রেয়স বলেন, “আমাদের জন্য যাত্রাটা বেশ লম্বা ছিল। স্টেডিয়ামে পৌঁছতেই প্রায় তিন ঘণ্টা লেগেছে।” এতটা পথ পেরিয়েও মাঠে ম্যাচ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি তাঁকে খুশি করেছে। তাঁর কথায়, ম্যাচটি পাঁচ ওভারের হলেও শেষ পর্যন্ত খেলা সম্ভব হওয়াটাই বড় ব্যাপার।
শ্রেয়স আরও বলেন, “দর্শকেরা এই ম্যাচটির জন্য দারুণ উৎসাহী ছিলেন। পাঁচ ওভারের ম্যাচ হলেও খেলতে পেরে আমি খুশি।” একই সঙ্গে জাপান দলের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেন ভারতীয় অধিনায়ক।
তবে এখানেই শেষ নয়। এশিয়ান গেমসে ভারতের পরবর্তী ক্রিকেট-পর্বের আগে পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন শ্রেয়স। তাঁর মতে, দায়িত্বের সঙ্গে চাপ আসবেই এবং সেই চাপ সামলাতেই তিনি পছন্দ করেন। “এক ধাপ করে এগোতে হবে। এশিয়ান গেমসের মাঠে গিয়ে প্রথমে পরিস্থিতি বুঝতে হবে, তার পর নিজেদের মান ঠিক করতে হবে,” বলেন তিনি।
জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিং অবশ্য একেবারেই স্বস্তি দেয়নি। মন্থর এবং ঘূর্ণি-সহায়ক উইকেটে ৫ ওভারে ৩২/৪ করে ভারত। শ্রেয়সই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক—১২ বলে ১৬। অভিষেক শর্মা শূন্য, সঞ্জু স্যামসন ৯ এবং ইশান কিষাণ ৩ রান করে আউট হন। জাপানের স্পিনারদের সামলাতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়ে ভারতের তারকা ব্যাটিং লাইন-আপ।
শ্রেয়সের ব্যাখ্যা, উইকেটটি ব্যাট করার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল। বল কখনও ঘুরছিল, কখনও আবার উইকেটে থেমে যাচ্ছিল। তাই বড় শটের বদলে খুচরো রান নেওয়ার দিকে নজর দিয়েছিলেন তিনি। জাপানের লড়াইয়েরও প্রশংসা করেন ভারতীয় অধিনায়ক। “জাপানের দলের মানসিকতা অসাধারণ ছিল। ওরা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। আমাদের জন্যও এই উইকেটে খেলাটা দারুণ অনুশীলন হয়েছে,” বলেন শ্রেয়স।
রান তাড়ায় জাপানকে শুরুতেই চাপে ফেলেছিল ভারত। ৭ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর কেন্ডেল কাদোওয়াকি-ফ্লেমিং ও বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস দলকে লড়াইয়ে ফেরান। চতুর্থ ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দর আবার উইকেট তুলে নেন। শেষ ওভারে ৮ রান প্রয়োজন হলেও অক্ষর জাপানিদের এই রান করতে না দিয়ে ভারতকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন। ওয়াশিংটন নেন ২ উইকেট।
এশিয়ান গেমসের মূল ক্রিকেট অভিযান শুরুর আগে তাই জাপানের বিরুদ্ধে এই কষ্টার্জিত জয় সানো-র কঠিন উইকেট এবং দীর্ঘ যাত্রা নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষাও নিয়ে নিল শ্রেয়সদের।




