• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 16 August, 2026

হাঁটু-কোমর প্রতিস্থাপন এবার বিনামূল্যে, আয়ুষ্মান ভারত চালু করে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে ১০০টি ‘অমৃত ফার্মেসি’ এবং ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র’ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে

হাঁটু-কোমর প্রতিস্থাপন এবার বিনামূল্যে, আয়ুষ্মান ভারত চালু করে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

রাজ্যে নতুন স্বাস্থ্য অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’। ১৬ আগস্ট আয়ুষ্মান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার অর্থাৎ ৬ কোটি মানুষ প্রত্যেক বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার আওতায় এলেন। আর এই তালিকার বাইরে থাকা অবশিষ্ট ৮০ লক্ষ পরিবারের চিকিৎসার জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’র কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দুই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ১৯৫০ ধরণের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে শুধু রাজ্যের আনুমানিক ১৫০০টি হাসপাতালে সীমিত সুবিধা মিলত। কিন্তু এখন চালু হওয়া নতুন দুটি প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ১২৪০টি বেসরকারি এবং ৬২৭টি সরকারি হাসপাতাল তো বটেই, দেশজুড়ে মোট ৩৮,৬০৪টি নথিভুক্ত হাসপাতালে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা দেশের সর্বত্র পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেলও। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হলো মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনাও। রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ মিলবে।

অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে ১০০টি ‘অমৃত ফার্মেসি’ এবং ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র’ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চোখের বিনমূল্যে চিকিৎসার জন্য সূচিত হয়েছে ‘সুদৃষ্টি’ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে এদিন জানান, মুম্বই, চেন্নাই অথবা বেঙ্গালুরুর মতো কলকাতার হাসপাতালগুলির সমস্যার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় সরকার বিবেচনা করবে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সুনীলজি এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার দেশবাসীর স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় ‘আয়ুষ্মান দিবস’ উদযাপনে বিশ্বাসী। এই অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল-সহ একাধিক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

তাছাড়া রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনায় হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা দুটির ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তাও বলে দিলাম। এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এবার ভাল দিন হলো। এটার মাধ্যমে বিশেষ করে গরিবরা ভাল পরিষেবা পাবেন। আসুন সবাই মিলে আয়ুষ্মান মন্দির তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভাল রাখি। কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে অন্তর থেকে প্রণাম নিবেদন করে আয়ুষ্মান দিবসের সফলতা প্রার্থনা করলাম।’