মাঝে আর একটা দিন। তারপরই তৃণমূল কংগ্রেসের বড় কর্মসূচি একুশে জুলাই। আর এই কর্মসূচির ঠিক আগেই গ্রেপ্তার করা হলো কালীঘাট তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা দেবাশিস চৌধুরী ওরফে মুনমুনকে। খড়গপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি দেবাশিস চৌধুরীকে রবিবার ভোরে তাঁর বাড়ি ‘মালঞ্চ’ থেকে গ্রেপ্তার করে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খড়গপুর শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এক মহিলাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জমি হাতানোর অভিযোগ থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জেলার পুরনো তৃণমূল নেতাদের মধ্যে একজন দেবাশিস। একদা যুব তৃণমূলের অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি ছিলেন।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৩ জুলাই ২১ নম্বর ওয়ার্ডের পোটারখোলি এলাকার বাসিন্দা মমতা বাঈ খড়গপুর টাউন থানায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই এফআইআরে দেবাশিস চৌধুরীর নাম ছিল না। কিন্তু তদন্তে নেমে অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী দল। এখন তাঁরা জামিন পেয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই দেবাশিস চৌধুরীর নাম উঠে আসে। তাই তাঁকে এখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে নানা সময়ে জেলায় তৃণমূলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যেত দেবাশিস চৌধুরীকে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখন ক্ষমতায় নেই। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এই আবহে অনেকেই দল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন। আবার তৃণমূলের যে বিদ্রোহী শিবির গড়ে উঠেছে সেখানেও পিল পিল করে নেতা-বিধায়ক-কাউন্সিলর যেতে শুরু করেছেন। তবে দেবাশিস চৌধুরী এই স্রোতে গা ভাসাননি। বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলত্যাগ না করে স্রোতের বিপক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে বাঁচাতে রেলশহরে নতুন করে পথে নেমে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করে দেন তিনি। এমনকী দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদও করেছিলেন। সেখানে এই গ্রেপ্তার কালীঘাট তৃণমূলকে চাপে ফেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া খড়্গপুর টাউন থানার আইসি অমিতকুমার মিত্রের নেতৃত্বে একটি দল দেবাশিস চৌধুরীকে তাঁর মালঞ্চের বাড়ি থেকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবারই তাঁকে আদালতে পেশ করে হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। দেবাশিস চৌধুরীর স্ত্রী নমিতা চৌধুরী খড়গপুর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। খড়গপুর শহরের দাপুটে নেতা তথা তুখোড় বক্তা হিসেবে জেলায় পরিচিতি রয়েছে দেবাশিসের। একুশে জুলাই সমাবেশের জন্য জোরদার প্রচার শুরু করেছিলেন দেবাশিস চৌধুরী এবং জহর পাল। আর দেবাশিস চৌধুরীর এই গ্রেপ্তারে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।




