হাতে আর বেশি সময় নেই। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে চলতি বছরের শেষ দিকে পৃথিবীর আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এল নিনো এবার অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এমনকি আধুনিক সময়ে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলিকেও এটি ছাপিয়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা ‘সুপার এল নিনো’র পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি চিন্তা শুধু সমুদ্রের উপরিভাগের গরম জল নিয়ে নয়। সমুদ্রের অনেকটা নীচে বিপুল পরিমাণ তাপ জমে রয়েছে। সেই তাপ ধীরে ধীরে উপরে উঠে এলে এল নিনোর শক্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নীচের স্তরে জমে থাকা তাপ ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময়ের তুলনায়ও বেশি। তাই আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এল নিনো তৈরি হয় যখন প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম হয়ে যায়। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ বদলে যেতে পারে। কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা হতে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে দীর্ঘ খরা। বাড়তে পারে তাপপ্রবাহের প্রকোপও।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনোর শক্তি আরও বাড়তে পারে। নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই পূর্বাভাস সত্যি হলে এবারের এল নিনো অতীতের অনেক শক্তিশালী এল নিনোর তুলনায় ভয়াবহ হতে পারে।
এর সঙ্গে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব। এল নিনো এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা জলবায়ু পরিবর্তন একসঙ্গে কাজ করলে ২০২৭ সালের শুরুতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা সাময়িক ভাবে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সব মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় বছরে তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা এবং বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তবে কোন এলাকায় ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা একটাই পৃথিবী আরও অস্থির আবহাওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে পরিবেশের দিকে যেন আরও বেশি করে নজর দেওয়া হয়। কারণ খুব ভালো অবস্থায় নেই বিশ্ব।




