দখলদারির অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই অভিযোগের জেরে জেসিবি এনে দোকান ভেঙে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
মামলার শুনানিতে জেসিবি ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠতেই বিচারপতির প্রশ্ন, “কী হচ্ছে এসব? জেসিবি ব্যবহার করা হয়েছে…” আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা বেআইনি দখলদার হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে আইনানুগ প্রক্রিয়ায়। কোনও বেসরকারি ব্যক্তি বা পক্ষ নিজের সিদ্ধান্তে কাউকে উচ্ছেদ করতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকার বদলেছে বলে বেসরকারি পক্ষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার তৈরি হয় না। জমি বা দোকান নিয়ে বিরোধ থাকলে তার নিষ্পত্তি করতে হবে প্রশাসন এবং আইনের পথেই।
জেসিবি চলল, পুলিশ কী করছিল?
দোকানদারদের উচ্ছেদের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। অভিযোগ, বেসরকারি পক্ষ জেসিবি এনে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, পরে প্রশাসনের তরফে আবেদনকারীদের পুনরায় দখলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের প্রশ্ন, যাঁকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দেওয়া হল, তাঁকে ফেরাতে কেন আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে?
দোকানের সামনে গর্ত, ফের প্রশ্ন আদালতের
শুনানিতে আরও একটি অভিযোগের কথাও উঠে আসে। দোকানের মালিককে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে তাঁর দোকানের সামনেই জমির মালিক বড় গর্ত খুঁড়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরে সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে। তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনই হওয়া উচিত ছিল না।”
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কাউকে তাঁর দখল থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না। দখলদারির অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে জেসিবি নামিয়ে উচ্ছেদ সেই প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না।
‘দোকান’ নয়, কারও জীবিকার অবলম্বন
একটি দোকান কারও কাছে নিছক একটি স্থাপনা হতে পারে। কিন্তু সেই দোকানই কোনও পরিবারের রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। তাই দখল নিয়ে অভিযোগ থাকলেও, আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কাউকে তাঁর জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা যায় না—আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে সেই মানবিক বার্তাও।
বার্তা স্পষ্ট—অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, ব্যবস্থা নিতে হবে আইনের পথেই। জেসিবি দিয়ে নয়, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হবে উচ্ছেদ।




