বদ্রীনাথের উপর নেমে আসছে বিপদের শঙ্কা। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ শহরের উপর ঘনাচ্ছে হিমবাহ ধসের আশঙ্কা। হিমালয়ের পাহাড়ে ঝুলে থাকা হিমবাহ থেকে বরফের বিশাল স্তর যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। আর তা ঘটলেই বিপদের মুখে পড়বে প্রায় ৩৯৮টি বাড়ি। বদ্রীনাথ ও তার আশেপাশের এলাকা নিয়ে সম্প্রতি এমনই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও সুনির্দিষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকল্পনার উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অফ হ্যাংইং-গ্লেসিয়ার অ্যাভালাঞ্চেস ইন বদ্রীনাথ টাউনশিপ, সেন্ট্রাল হিমালয়াস, ইন্ডিয়া’ শীর্ষক গবেষণায় বদ্রীনাথ শহরের আশেপাশের তিনটি ঝুলন্ত হিমবাহকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র, রিমোট সেন্সিং তথ্য ও গাণিতিক মডেলের সাহায্যে হিমবাহ থেকে বরফ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা ও তার গতিপথ বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ‘র্যাপিড মাস মুভমেন্ট সিমুলেশন’ মডেল।
গবেষণায় বরফধসের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি বুঝতে কম, মাঝারি ও উচ্চ গতিশীলতার তিনটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, বরফের পরিমাণ, হিমবাহের ঢাল ও নীচের ভূপ্রকৃতি ধসের গতিবেগ ও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বরফের পরিমাণ বেশি হলে এবং ঢাল ছাড়া হলে ধসের তীব্রতা ও বিস্তার সাধারণত বাড়ে।
তিনটি হিমবাহের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানটিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। সেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রায় ৩৯৮টি বাড়ি, ২.৬৬ কিলোমিটার সড়ক ও পরিবহণ পরিকাঠামো, ৩.৮৭ হেক্টর কৃষিজমি ও ১৫.৫৭ হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপদের তালিকায় রয়েছে হেলিপ্যাড ও পার্কিং এলাকাও।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শুধু বরফের পরিমাণের উপর ধসের বিস্তার নির্ভর করে না। পাহাড়ের ঢাল ও নীচের উপত্যকার গঠন অনুকূল হলে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণ বরফ নিয়েও ধস অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে। ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিজমি ও বনাঞ্চলও।
আরও পড়ুন: ৩০ দিনের মাথায় ফের বাড়ল গ্যাসের দাম, মাথায় হাত আমজনতার, কলকাতায় কত?
বদ্রীনাথ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতি বছর বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম হয় সেখানে। তাই বিপদের আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নির্মাণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, সময় থাকতে থাকতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে ভবিষ্যতে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বদ্রীনাথ।




