• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 30 October, 2026

নেতানিয়াহু বিদায় নিলে ভারতের লাভ কতটা? ইরান-গাজা নিয়ে বদলাবে কি ইজরায়েলের অবস্থান?

ইজরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট পেতে পারেন ৪৮টি আসন।

নেতানিয়াহু বিদায় নিলে ভারতের লাভ কতটা? ইরান-গাজা নিয়ে বদলাবে কি ইজরায়েলের অবস্থান?

ইজরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট পেতে পারেন ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঝুলিতে যেতে পারে ৫৩টি আসন। অর্থাৎ, সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁতে পারছে না কোনও পক্ষই। আরব দলগুলির দখলে থাকতে পারে ১৯টি আসন। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গড়বে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর চেষ্টাও। এরই মধ্যে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে ভারতের লাভ কতটা? আর গাজা ও ইরানের ভবিষ্যৎই বা কোন পথে এগোবে?

প্রথমেই আসা যাক ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কথায়। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে বাণিজ্য— বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফর এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্কও যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ। তবে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভিত্তি কেবল দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব নয়। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা চুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ গবেষণা প্রকল্পও এই অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

সেই কারণেই জেরুজালেমে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কে বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থ এতটাই নিবিড় যে, নতুন সরকার এলেও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ভারতের সামনে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে হবে, অন্যদিকে আরব দেশগুলি এবং ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে।

তবে ইরান ও প্যালেস্তাইন প্রশ্নে ইজরায়েলের অবস্থান বদলের সম্ভাবনা নিয়ে ছবিটা কিছুটা জটিল। তেহরানের সঙ্গে তেল আভিভের সংঘাত এখনও অমীমাংসিত। গাজার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর পরিবর্তে গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলেও ইরান ও হামাসের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের কঠোর অবস্থানে বড়সড় বদল আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নেও আইজেনকোটের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তিনিও প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার বিরোধী। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও ইজরায়েলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং নেতানিয়াহুর সঙ্গে আইজেনকোটের মতপার্থক্য মূলত অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা, সরকার পরিচালনার পদ্ধতি, জোট গঠনের শর্ত এবং অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলিকে ঘিরে।

সব মিলিয়ে, ইজরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কিন্তু ইরান, হামাস কিংবা প্যালেস্তাইন প্রশ্নে দেশটির দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থান রাতারাতি বদলে যাবে, এমনটা মনে করছেন না ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। ভারতের জন্যও তাই মূল চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ভারসাম্য রক্ষা করা।