• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 28 October, 2026

ইজরায়েলে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন নেতানিয়াহু? সরকার গঠনে নির্ণায়ক হবে কি আরব দলগুলি?

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে একাধিক জনমত সমীক্ষায় সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছিলেন গাদি আইজেনকট

ইজরায়েলে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন নেতানিয়াহু? সরকার গঠনে নির্ণায়ক হবে কি আরব দলগুলি?

Image: X/@gadi_eisenkot, (X/@IsraeliPM_heb

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পদে আরও একবার ফিরতে পারবেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu), নাকি তাঁকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করবেন গাদি আইজেনকট? ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা সামনে আসতেই এই প্রশ্ন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ইজরায়েলের রাজনৈতিক মহলে। তবে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) নেতৃত্বাধীন জোট। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও অনেকটাই দূরে আছেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার ইজরায়েলে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। প্রাথমিকভাবে খবর, ১৯৯৯ সালের পর এ বারই সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইজরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ভোটদানের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইমস অফ ইজরায়েল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭০ শতাংশের বেশি ভোটগণনা হয়েছে। বিরোধীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমর্থন এখনও নিশ্চিত হয়নি।

আরও পড়ুন: সাহসিকতার স্বীকৃতি, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে সম্মান জানাল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি

প্রাথমিক হিসাবে নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) লিকুদ পার্টির ২৭ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন এবং আরও ২৯ জন এগিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে, গাদি আইজেনকটের ইয়াশার জোটের ২১ জন প্রার্থী জয় পেয়েচেন এবং আরও ২৭ জন এগিয়ে রয়েছেন। ফলে দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত ফলাফল জানতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা।

সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব জোট

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে একাধিক জনমত সমীক্ষায় সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছিলেন গাদি আইজেনকট। তবে ইজরায়েলের নির্বাচনে কোনও ব্যক্তি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন না। সংসদীয় নির্বাচনে ভোটারেরা পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। এই ব্যবস্থার নাম হল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।

ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন। ফলে কোনও দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলির সমর্থন প্রয়োজন হয়।

ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা থেকে মনে হচ্ছে আরব দলগুলির জোট ১৮টি আসন পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নেতানিয়াহু বা আইজেনকট কোনও পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, এই দলগুলি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে চিতাশাবকেরর মৃত্যু, দেহ থেকে উদ্ধার পাঁচটি গুলি, তদন্তে বিশেষ দল গঠন

কীভাবে সরকার গঠন হয় ইজরায়েলে?

ইজরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ভোটের পর শুরু হয় জোট গঠনের আলোচনা। জোট গঠনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনে আরও ১৪দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনের আলোচনা সফল না হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনও নেতাকে সেই দায়িত্ব দিতে পারেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেটের সদস্যেরা বিকল্প নেতা বেছে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। সেই প্রক্রিয়াতেও সমাধান না মিললে ফের নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এ দেশে রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট গঠনের জটিলতা নতুন নয়। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইজরায়েলে পাঁচবার নির্বাচন হয়েছিল।

২০২২ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। পরে কয়েকটি কট্টর ডানপন্থী দলের সঙ্গে জোট গড়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা মোট ৬৪টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এবার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই নেতানিয়াহুর সামনে বড় পরীক্ষা। আপাতত নজর ভোটগণনার শেষ পর্ব এবং আরব দলগুলির অবস্থানের দিকে।

দেখুন: