• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 28 October, 2026

ভোটের আগে কলকাতার ওয়ার্ড-মানচিত্র বদল! ১৪৪-২০৯, ডিলিমিটেশন ঘিরে হাইকোর্টে তীব্র সংঘাত

রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল পাল্টা দাবি করেন, এটি জনস্বার্থ মামলা নয়। ২২ আগস্ট ড্রাফট সিডিউল প্রকাশের সময় মামলাকারীদের তরফে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি বলেও তাঁর বক্তব্য। তাঁর দাবি, মামলাটি দ্রুত শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট দলের তরফেও কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

ভোটের আগে কলকাতার ওয়ার্ড-মানচিত্র বদল! ১৪৪-২০৯, ডিলিমিটেশন ঘিরে হাইকোর্টে তীব্র সংঘাত

Photo: Statesman

পুরভোটের আগে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ঘিরে আইনি লড়াইয়ে উত্তপ্ত কলকাতা হাইকোর্ট। ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯টি করার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় বুধবার শেষ হল শুনানি। রায়দান স্থগিত রেখে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেবেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ।

বুধবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র প্রশ্ন তোলেন, এই মামলা অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির উপযুক্ত কি না। তাঁর বক্তব্য, শীঘ্রই নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে। এত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলার পর এখন কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন মামলাকারীরা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজ্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “এতদিন ধরে সমগ্র প্রক্রিয়া চলছে, তারপর মামলা কেন? ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলা কেন?” অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছাচারিতা রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, পুরসভার প্রশাসকের ডিলিমিটেশন নিয়ে পদক্ষেপ করার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, ভোটের বাক্স টানতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী শামিম আহমেদও অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন জানান। তিনি জানান, ৫ আগস্ট প্রথম আপত্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেখানে ২০৯টি ওয়ার্ডের কথা বলা হয়েছিল।

শুনানিতে কলকাতার পুর কমিশনারের পাঠানো প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, পুর কমিশনার যেভাবে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট আইনি সংস্থান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জবাবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত পদক্ষেপ করার প্রয়োজন হল কেন?

রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল পাল্টা দাবি করেন, এটি জনস্বার্থ মামলা নয়। ২২ আগস্ট ড্রাফট সিডিউল প্রকাশের সময় মামলাকারীদের তরফে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি বলেও তাঁর বক্তব্য। তাঁর দাবি, মামলাটি দ্রুত শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট দলের তরফেও কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

তবে শুনানিতে আদালত জানতে চায়, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও পদ্ধতি রয়েছে কি না। ফলে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়াও শুনানির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ১৪৪-২০৯ ওয়ার্ড! পুরভোটের মুখে কলকাতার সীমানা নিয়ে চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে

বুধবার শুনানি শেষ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করেনি আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে পরবর্তী আইনি লড়াই কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আইনজীবী মহলে একাংশের।