অন্ধ্রপ্রদেশে ল্যান্ডফলের পরেই তাণ্ডব দেখাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। যদিও যত স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে, ততই শক্তি হারাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়। ইতিমধ্যেই অর্ণবের দাপটে অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এখনও পর্যন্ত সেখানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ৩১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে একাধিক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছুঁয়েছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছয়। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।
বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করে ঝড়টি। নরসাপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে, ইয়ানাম থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কাকিনাড়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা-সহ সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিপর্যয় মোকাবিলা ও উদ্ধারকারী দলগুলি প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজে নেমেছেন। প্রশাসন সূত্রের খবর, অর্ণবের তাণ্ডবের প্রভাব পড়েছে ৭১৪টিরও বেশি গ্রামে। অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশাতেও এই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু বুধবার প্রশাসনের ৩২ হাজার কর্মীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: মার্সিডিজ-কাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগ, সরানো হল কোচির পুলিশ কমিশনারকে
ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, রাজ্যে ৩১৩টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২ হাজার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝাড়খণ্ডেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। রাজধানী রাঁচি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যের ৯টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।




