টানা ১৯ বছর ধরে ক্ষমতার শীর্ষে তিনি। এর মধ্যে দেশ দেখেছে ৭ অক্টোবরের মতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলা, গাজা যুদ্ধ এবং ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি। এ বার সেই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) ভাগ্যেই কি ঘনাচ্ছে আশঙ্কার মেঘ? ২০২৬ সালের ইজরায়েল নির্বাচনে (Israel Election 2026) প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কি গদি হারাতে চলেছেন? দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর একটি প্রতিবেদন অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বেটিং মার্কেট এবং সমীক্ষায় কার পাল্লা ভারী?
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবর অনুযায়ী, বেটিং মার্কেট এবং একাধিক ওপিনিয়ন পোল বা জনমত সমীক্ষা কিন্তু নেতানিয়াহুর জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক খবর দিচ্ছে না। প্রখ্যাত প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেট (Polymarket)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মানুষ বাজি ধরেছেন মধ্যপন্থী (Centrist) চ্যালেঞ্জার গাদি আইজেনকোটের (Gadi Eisenkot) পক্ষে। অন্যদিকে, মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন নেতানিয়াহু ফের ক্ষমতায় ফিরবেন।
🚨 BREAKING | 🇮🇱 Israel’s turnout hits a near 50-year high
Central Elections Committee: 31.5% voted by noon, over 2.3 million people, vs 28.4% at the same hour in 2022.
If Arab turnout surges too, Netanyahu’s path to 61 seats narrows.
#IsraelElection #Israel https://t.co/bVoIf7TZsb
— Notif News (@NotifNews1) October 27, 2026
৪,০০০ ইজরায়েলি ভোটারের উপর করা একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষাতেও দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি (Likud Party) এবার মাত্র ১৯টি আসন পেতে পারে, যা আগে ছিল ৩২টি। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ২০টি আসন নিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে, ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার কোনও পক্ষই একা ছুঁতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
৭ অক্টোবরের ছায়া এবং জনরোষ
নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা এবং তারপরের পরিস্থিতি। ইজরায়েলিদের একটি বড় অংশের মতে, এটি দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি গাজা যুদ্ধ, লেবাননে স্থল অভিযান, সিরিয়ায় হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত– এই সবকিছু নিয়েই মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি (ICC)-র জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ঘুষ ও জালিয়াতির মতো দুর্নীতির অভিযোগও নেতানিয়াহুর অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের সমর্থন কি কাজে আসবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘স্ট্রং, ব্রেভ অ্যান্ড ব্রিলিয়ান্ট’ (Strong, brave and brilliant) বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। কিন্তু ইজরায়েলি রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই সমর্থন নেতানিয়াহুর বৈতরণী পার করতে কতটা সাহায্য করবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে?
ইজরায়েলের খণ্ডিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে, কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন করতে সপ্তাহ বা মাসখানেকও সময় লাগতে পারে। বিরোধী দল ‘যাশার’ (Yashar) ইতিমধ্যেই ব্যালট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, আরব ভোটারদের উপস্থিতিও অন্তত ১৫টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলিরা পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেন, নাকি অভিজ্ঞ নেতানিয়াহুর উপরেই ফের ভরসা রাখেন, এখন সেটাই দেখার।




