নিজের রেকর্ড অটুট থাকা নিয়ে আর নিশ্চিত নন যুবরাজ সিং। বরং তাঁর বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ওভারে ছ’টি ছক্কা মারার সেই কীর্তি আর খুব বেশি দিন অক্ষত থাকবে না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসন যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এই রেকর্ড ভেঙে যাওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
২০০৭-এর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছ’টি ছয় মেরেছিলেন যুবরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কায়রন পোলার্ড এবং নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরি-ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ওভারে ছ’টি ছয় মেরেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়া একমাত্র ভারতীয় এখনও যুবরাজই।
মুম্বইয়ে নিজের সংস্থার নিউট্রিশন সাপ্লিমেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুবরাজ বলেন, ‘রেকর্ডটা খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাবে মনে হচ্ছে। এত দিনেও যে রেকর্ডটা ভাঙেনি, সেটাই বরং অবাক করার মতো। তবে খেলা যে ভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি নিশ্চিত, খুব তাড়াতাড়ি এই রেকর্ড ভেঙে যাবে।’
ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া তারকা অভিষেক শর্মার মেন্টর তিনি। অভিষেকের শুরুর দিকে তাঁকে কাছ থেকে তৈরি করেছেন যুবরাজ। তাই এই বাঁহাতি ওপেনারের সাফল্যে তিনি বিশেষ ভাবে গর্বিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইসিসি-র টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের ক্রমতালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন অভিষেক। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করেই ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে পেরিয়ে যায় ভারত।
অভিষেকের এই উত্থানের পিছনে যে পরিশ্রম রয়েছে, তা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন যুবরাজ। তাঁর কথায়, ‘ও প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। গত দু-তিন বছর ধরে যে ক্রিকেটার এক নম্বরে রয়েছে, তাকে সাধারণ ক্রিকেটারের তুলনায় চার গুণ বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। কেউ যদি সেই পর্যায়ের ক্রিকেটার হতে চায়, তা হলে তাকেও চার গুণ বেশি পরিশ্রম করতে হবে। এর পিছনে কোনও গোপন রহস্য নেই।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইতিমধ্যেই নজরকাড়া পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে অভিষেকের। ৭১টি ম্যাচে তাঁর রান ২,২৬৭। গড় ৩৩.৩৩, স্ট্রাইক রেট ১৯৬.৬১। রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি এবং ১৪টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান ১৩৫। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দু’বছরের সামান্য বেশি সময়ের মধ্যেই তিনি ভারতের হয়ে এই ফরম্যাটে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে উঠেছেন।
যুবরাজের ছয় ছক্কার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে। কিন্তু অভিষেকের ব্যাটে যে নতুন প্রজন্মের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ছবি ফুটে উঠছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। আর সেই আগ্রাসনের পিছনে যে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম— সে কথাই বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁর মেন্টর যুবরাজ।




